বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে জেলাপর্যায়ে পরামর্শ সভা প্রতিরোধ কমিটিগুলো সক্রিয়করণের তাগিদ

15

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে জেলাপর্যায়ে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে গঠিত কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। সভায় বাল্যবিয়ের বিভিন্ন কারণ নির্ণয় করা হয়েছে।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ হঠাৎ করে ভালো বর বা পাত্র পাওয়া, ইভটিজিং, শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের ভয়, ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পালিয়ে যাবার ভয়, অধিক যৌতুক দেবার ভয়, অথবা বিনা যৌতুকে বিয়ের জন্য ১৪-১৬ বছর বয়সকে বিয়ের সঠিক বয়স হিসেবে মনে করা, বাবা-মায়ের আলাদা থাকা বা তালাক দেয়া, কন্যাসন্তানকে বোঝা মনে করা, পিতামাতার অসচেতনতা, লেখাপড়া ছেড়ে দেয়া, কন্যাসন্তানদের লেখাপড়া করানোকে অলাভজনক ভাবা, মেয়ে দেখতে সুন্দর হলে বিয়ের জন্য বর বা ছেলে পক্ষের চাপ, সামাজিক চাপ, ভালো বর বা পাত্রের সহজলভ্যতা, বৃদ্ধ পিতা এবং মাতা প্রধান পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা, সর্বোপরি আইন না জানা এবং না মানাসহ নানান কারণে বাল্যবিয়ে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাজীদের সহকারীরা বিয়ে সম্পাদনের কাজ করছেন। বাল্যবিয়ের কারণে বৈধভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে না। ফলে তালাকের সময় কনে পক্ষ কোনো আইনি সহায়তা নিতেও পারছে না। এমন ঘটনা হরহামেশায় ঘটছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকিউল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেনÑ জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাহিদা আখতার, এসিডির পরিচালক (প্রোগ্রাম) শারমিন সুবরীনা, কোর্ট জামে মসজিদের ইমাম মো. মেক্তার হোসেন, জেলা কাজী সমিতির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, বিনোদপুর কিশোর-কিশোরী ক্লাবের পিয়ার লিডার ছন্দা শীল ও ইসলামপুর ক্লাবের পিয়ার লিডার সজিব আলী। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে বাল্যবিয়ে সম্পর্কিত এসিডির কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এসিডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম।
সভাপতিত্বের বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকিউল ইসলাম বলেনÑ বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে মূলত ধর্ম বা দরিদ্রতা কোনো বাধা নয়। সবচেয়ে বড় বাধা হলো সমাজের মানুষের চেতনাবোধ তথা মানসিকতার। সরকারের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের সেই মানসিকতা পরিবর্তনে এক হয়ে কাজ করে যেতে হবে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ আইন সম্পর্কে সকলকে সচেতন করতে হবে।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ-সংক্রান্ত জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে আরো বেশি কাজ করতে হবে। সকলের সহযোগিতায় এই জেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত জেলা ঘোষণা করা হবে। সেই লক্ষে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ জানান, করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময় সাড়ে ৬শোর উপর ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে।
জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাহিদা আখতার বলেনÑ শুধু সাধারণ শিক্ষার দিকে না তাকিয়ে মেয়েদের কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। তাহলে তারা আয় রোজগারের পথ পাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে। তাহলে তাদের ক্ষমতায়ন হবে। আর তাহলে তারা আর বাল্যবিয়ে করবে না।
সভাটি ইউনিসেফের সহযোগিতায় অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি) আয়োজন করে।