বাল্যবিয়ে ও মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক

14

বাল্যবিয়ে এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, ইতিবাচক অভিভাবকত্ব, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা এবং কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিসেফের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন এ বৈঠকের আয়োজন করে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রওশন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- স্থানীয় সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক ও সরকারের উপসচিব দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রশিদ, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাহিদা আখতার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহনাজ খাতুন, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আসলাম কবীর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১১নং সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল হাই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভীনসহ অন্যরা। উঠান বৈঠক সঞ্চলনা করেন বিদ্যালয়টির শিক্ষক মোক্তাদির দিপু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও বলেন- মেয়েদের ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ে নয়। এটি সরকার প্রদত্ত আইনদ্বারা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আইনের ব্যত্যয় ঘটনা যাবে না। সরকার এই আইন করেছেন এ জন্য যে, বাল্যবিয়ে হলে একটি মেয়ে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, দেশের উন্নয়নে সে ভূমিকা রাখতে পারে না, নিজের এবং দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তাছাড়া যে মেয়েটিকে সংসারের বোঝা মনে করে অল্প বয়সে বিয়ে দেয়া হয় সে কিন্তু একটি বা দুটি সন্তানের মা হয়ে নানান কারণে তালাকপ্রাপ্ত হয়ে আবার বাবা-মায়ের সংসারে ফিরে আসে। তখন সংসারের বোঝা আরো বাড়ে। তাই বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, মাদক আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে। তাই মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতা করতে হবে। তিনি বলেন, মানুষ হচ্ছে সৃষ্টির সেরা জীব, আর এই সেরা জীব হিসেবে আমাদের কিছু করণীয় আছে। আর তাহলো স্বল্পজীবনের অধিকারী মানুষ আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাচ্ছি সেটাই বড় কথা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা শেখ হাসিনা নারীদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু করে যাওয়া।