বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ অনুমোদন

138

imagesবাল্যবিবাহের শাস্তি-জরিমানা, ছেলে ও মেয়ের বিয়ের বয়স নির্ধারণ এবং বিশেষ প্রেক্ষাপটে আদালতের নির্দেশনায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের বিধান যুক্ত করে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ ও ছেলেদের বেলায় ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর কম হলে বাল্যবিবাহ বলে গণ্য হবে। ছেলে-মেয়ে উভয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে কিংবা প্রমাণে জন্মনিবন্ধন সনদ, পিইসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার সনদ এবং পাসপোর্টে উল্লিখিত তারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্র- যে কোনো একটি দিলেই হবে। এসব আইনগত দলিল হিসেবে গণ্য হবে। মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, নতুন আইনে অপরাধের শাস্তি ও জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। আগের সব বিধান বহাল রয়েছে। তবে বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের সুযোগ রাখার নতুন একটি বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারীর সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নিন্দেশে মাতা-পিতার সম্মতিতে বিধির মাধ্যমে নিন্দেশিত প্রক্রিয়ায় বিয়ে দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারীর সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশনাক্রমে মাতা-পিতার সমর্থনে বিয়ে হলে এ আইনের অধীনে (বাল্যবিবাহ) অপরাধ হবে না। বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের বিষয়ে বিশদ বর্ণনা দিয়ে সচিব বলেন, ১৮ বছরের নিচে বিয়ে হলে তা অপরাধ; তবে ‘বিশেষ কেইসের’ ক্ষেত্রে তা হবে না। ‘অবিবাহিত মাতা, কিন্তু তার বাচ্চা আছে- এ রকম কেইস যদি হয়, এসব ক্ষেত্রে তাকে প্রোটেকশন দেওয়ার জন্য আইনে নতুন করে এই বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া সমাজে এখন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়, যেমন ১০-১১ বছরেও কেউ পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়। এ ধরনের বিয়েশাদিকে লিগালাইজ করার জন্য এই নতুন বিধান।’ তবে আইনে ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটের’ কোনো সংজ্ঞা রাখা হয়নি বলে জানান সচিব। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশেষ প্রেক্ষাপটের সংজ্ঞা আদালত নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে কোনো বয়সও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। নতুন আইনে বাল্যবিবাহের শাস্তি ও জরিমানা বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্করা বিয়ে করলে আইন অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ ১৫ দিনের আটকাদেশ বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বিয়ের বয়স হয়নি এমন কাউকে বিয়ে করলে অনধিক দুই বছর কারাদ-, এক লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন। তিনি আরো বলেন, বাল্যবিবাহের সঙ্গে পিতা-মাতা বা অন্যরা জড়িত থাকলে ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদ-, ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয় দ- হতে পারে। জরিমানার টাকা না দিলে আরও তিন মাসের জেল খাটতে হবে। তাছাড়া বাল্যবিবাহ সম্পাদন বা পারিচালনা করলেও ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদ-, ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয় দ- দেওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করলে (কাজী) নিবন্ধকের লাইসেন্স বাতিল হবে। পাশাপাশি ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদ-, ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয় দ- হতে পারে। আদালত নিজ উদ্যোগে অথবা কারও অভিযোগের ভিত্তিতে বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারবে। তাছাড়া ওই নিষেধাজ্ঞা না মানলে ছয় মাসের জেল, ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দ- দেওয়া যাবে বলেও জানান সচিব। বাল্যবিবাহের মিথ্যা অভিযোগ করলে আইনে তার শাস্তি রাখা হয়েছে জানিয়ে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদ-, কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয় দ- দেওয়া যাবে। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহে বিচার অন্যান্য ফৌজদারি বিচার যেভাবে হয়, সরেজমিনে তদন্ত করে সেভাবেই এই অভিযোগের বিচার হবে। এ আইনের আওতায় ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা যাবে। বিচারে যে অর্থদ- আদায় হবে তা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করা যাবে।