বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়

45

01-

পুরো ম্যাচে একের পর এক ফাউল করে লিওনেল মেসি-নেইমারদের দুরন্ত ফুটবলে ছন্দপতন ঘটনোর চেষ্টা করে গেল এসপানিওল। কিন্তু আটকানো যায়নি দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই দুই তারকাকে। অসাধারণ এক জয় নিয়ে তাই মাঠ ছেড়েছে বার্সেলোনা।
কাম্প নউয়ে বুধবার রাতে কোপা দেল রের সেরা ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে ৪-১ গোলে জিতেছে লুইস এনরিকের দল।
এ জয়ে কোপা দেল রের কোয়ার্টার-ফাইনালে এক পা দিয়েই রাখলো লুইস এনরিকের দল। আগামী বুধবার এসপানিওলের মাঠে হবে ফিরতি লেগ।
হলুদ আর লাল কার্ডের ছড়াছড়ির ম্যাচে এসপানিওল মোট ৯টি হলুদ আর দুটি লাল কার্ড দেখে। হলুদ কার্ডের খাড়ায় পড়েছেন বার্সেলোনার আক্রমণভাগের তিন তারকা মেসি, সুয়ারেস ও নেইমার। স্বাগতিকদের হলুদ কার্ড পাওয়া আরেক জন হলেন জেরার্দ পিকে।
নিজেদের মাঠে সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো বার্সেলোনা। বল পায়ে ঢুকে পড়েছিলেন নেইমার, কিন্তু দ্রুত এগিয়ে এসে বাধা হয়ে দাঁড়ান এসপানিওল গোলরক্ষক।
দুই মিনিট বাদেই এগিয়ে যায় এসপানিওল। নিজেদের সীমানায় দানি আলভেসের থেকে বল কেড়ে নিয়ে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মার্কো আসেনসিও ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে গিয়ে বল বাড়ান ফেলিপে কাইসাদোকে। ১৬ গজ দূর থেকে নির্ভুল শটে লক্ষ্যভেদ করেন ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই স্ট্রাইকার।
অতিথিদের এগিয়ে যাওয়ার উল্লাস অবশ্য দুই মিনিটও স্থায়ী হয়নি; দলের সেরা তারকার গোলে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। দারুণ দলগত প্রচেষ্টার আক্রমণটির শুরু লুইস সুয়ারেসের পা থেকে। তার বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পাল্টে নেইমারের কাছে যায়। ব্রাজিলিয়ান তারকার বাড়ানো বল পান আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। বহুদিনের এই সতীর্থের রক্ষণচেরা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন মেসি।
২৪তম মিনিটে পেনাল্টি পেতে পারতো বার্সেলোনা। ডি বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন নেইমার, কিন্তু বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ মুহূর্তে তাকে ফেলে দেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার হাভিয়ের লোপেস। তবে তা রেফারির চোখ এড়িয়ে যায়।
৪৪তম মিনিটে মেসির দারুণ নৈপুণ্যে অবশেষে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে টানা চারবারের বর্ষসেরা তারকার ফ্রি-কিকটি শেষমুহূর্তে বাঁক খেয়ে পোস্টে লেগে ভিতরে ঢুকে যায়।
এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে ২৪টি ফ্রি-কিক থেকে মেসির এটা চতুর্থ গোল।
দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-১ করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন জেরার্দ পেকে। মেসির কোনাকুনি পাস পেয়ে সহজেই গোলটি করেন স্পেনের এই ডিফেন্ডার।
৬০তম মিনিটে হ্যাটট্রিক হতে পারতো মেসির, কিন্তু নেইমারের আড়াআড়ি পাসে ঠিকমতো পা লাগাতে পারলেন না এবারের ফিফা ব্যালন ডি’অরের শক্ত দাবিদার। এর খানিক পর গোলের সুযোগ হারান নেইমার নিজেই।
৬৬তম মিনিটে দানি আলভেসের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এ মৌসুমেই কাম্প নউয়ে যোগ দেওয়া আলেইশ ভিদাল। গত জুনে বার্সেলোনায় নাম লেখালেও ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন মাঠে নামতে পারেননি। একই কারণে এতদিন খেলতে না পারা আরেক মিডফিল্ডার তুরস্কের আর্দা তুরান এ দিন ম্যাচের প্রথম একাদশেই ছিলেন।
৭২তম মিনিটে বড় ধাক্কাটি খায় এসপানিওল; দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার হের্নান পেরেস। শুরু থেকেই একের পর এক ফাউল করা দলটি এর তিন মিনিট পরে নেমে যায় নয় জনে। সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সেনেগালের মিডফিল্ডার দিয়োপ।
৮২তম মিনিটে আবারও গোলের সহজ সুযোগ হারায় বার্সেলোনা। বাঁদিক থেকে সুয়ারেসের আড়াআড়ি পাসে শুধু পা লাগালেই গোল পেতে পারতেন নেইমার, কিন্তু পারলেন না। একই সুযোগ ছিল মেসিরও, কিন্তু ব্যর্থ হলেন অনেকের মতেই বিশ্বের সেরা এই তারকা।
৮৮তম মিনিটে কাক্সিক্ষত গোল পেয়ে যান নেইমার। মেসির সঙ্গে একবার বল দেওয়া নেওয়া করে ভলিতে বল জড়ান এ মৌসুমে লা লিগায় এখন পর্যন্ত ১৪ গোল করা নেইমার।
যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে হ্যাটট্রিক পূরণের আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। কিন্তু আরও নিশ্চিত হতে নিজে শট না নিয়ে তিনি বল বাড়ান সুয়ারেসকে। বলে পা লাগাতে ব্যর্থ হন লিভারপুলের সাবেক এই স্ট্রাইকার।