দৈনিক গৌড় বাংলা

মঙ্গলবার, ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

বার্ড ফ্লুর নতুন ধরনে আক্রান্ত হয়ে প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যু

মেক্সিকোতে এক ব্যক্তি বার্ড ফ্লু ভাইরাসের এইচ৫এন২ ধরনে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এই ঘোষণা দিয়েছে। এ ধরনের ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, এইচ৫এন২ ধরনে আক্রান্ত ৫৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি গত ২৪ এপ্রিল মারা যান। তার জ¦র, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া এবং বমি বমি ভাবসহ নানা উপসর্গগুলো প্রকাশ পেয়েছিল। ওই ব্যক্তির স্বজনরা বলেছেন, তীব্র লক্ষণগুলো প্রকাশের আগেই তিনি নানা রোগে তিন সপ্তাহ ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। মেক্সিকোর জনস্বাস্থ্য বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, আক্রান্ত ব্যক্তি আগে থেকেই নানা রোগে ভুগছিলেন। তার কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ ছিল। গত ২৪ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে এবং একই দিনেই তিনি মারা যান। প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরে একটি অজ্ঞাত ধরনের ফ্লুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ল্যাবে পরীক্ষা করার পর তা এইচ৫এন২ ধরনের ভাইরাসের বলে নিশ্চিত করেছে ডাব্লিউএইচও। সংস্থাটি আরো বলেছে, ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ৫এন২) ভাইরাসে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ঘটনা এটি, যা পরীক্ষাগার থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ’মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির একজন ইনফ্লুয়েঞ্জা বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু পেকোস রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, ‘নতুন ধরনের ভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তি পূর্বেই নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর গুরুতর ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের ঝুঁকিতে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি।’ তবে ডাব্লুএইচও বলেছে, কীভাবে এই ব্যক্তি সংক্রামিত হলো সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার উৎস অজানা হলেও মেক্সিকোর খামারগুলোতে এ (এইচ৫এন২) সনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মিচোয়াকান রাজ্যের একটি মুরগির খামার, যেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিটি থাকতেন। ডাব্লিউএইচও বলেছে, বাড়িতে এবং হাসপাতালে মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা লোকদের পরীক্ষা করা সত্ত্বেও তাদের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। সংস্থাটি বলছে, ‘কিছু তথ্যের ভিত্তিতে এই ভাইরাসে মানুষের ঝুঁকি কম।’ মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বলেছে, ‘জনসাধারণের মধ্যে সংক্রামনের কোনো ঝুঁকি নেই।’ কর্তৃপক্ষ মৃত ব্যক্তির বাড়ির কাছাকাছি খামারগুলো পর্যবেক্ষণ করছে এবং এই অঞ্চলে বন্যপ্রাণীদেরও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। গবাদিপশু থেকে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে তবে মানুষ থেকে অন্য মানুষের মধ্যে এ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি। বার্ড ফ্লুর একটি ভিন্ন রূপ, এ(এইচ৫এন১)। কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুগ্ধজাত গরুর পালের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মানুষের মধ্যেও অল্প সংখ্যক আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। সূত্র : আলজাজিরা

About The Author