বাণিজ্যভিত্তিক পাচারকৃত অর্থের ৮০ শতাংশ

62

gourbangla logoদেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ বিদেশে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পাচার করা হয়, তার মধ্যে ৮০ শতাংশ অর্থ পাচার হয় বাণিজ্যের মাধ্যমে। যার দ্বারা বুঝা যায়, উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক কর্মকা- এসব চোরাচালানের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে থাকে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)’র সম্মেলন কক্ষে চোরাচালান নিরোধ কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে পুনর্গঠিত টাস্কফোর্সের প্রথম বৈঠকে এ তথ্য উঠে আসে। বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, সামরিক, বেসামরিক ও প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এনবিআরে আয়োজিত বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে- সময়ের ধারাবাহিকতায় চোরাচালানের নতুন নতুন ক্ষেত্র ও ধারণা আবিষ্কার হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মানি লন্ডারিং এর শতকরা ৮০ ভাগ বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচারের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চোরাচালানের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে থাকে। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে চোরাচালান প্রতিরোধে কার্য্কর ভূমিকা রাখছে। কাস্টমস আইন ১৯৬৯ এর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করে সার্বিক কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুনর্গঠিত এই টাস্কফোর্সের বর্ণনা দিয়ে সভার কার্যপত্রে আরো বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নতুন করে অন্তভুর্ক্ত করা হয়েছে। ফলে চোরাচালান প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স একটি সমন্বিত রুপ পেয়েছে। এছাড়া সভায় ৯টি সংস্থার ১৭টি আইটেম চোরাচালান নিয়ে আলোচনা হয়। সভা থেকে ১৭টি বিষয়ের ওপর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এর আগে ২৮ বছর পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চোরাচালান নিরোধ টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করা হয়। ১৯ সদস্যের ওই কমিটিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানকে সভাপতি ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খানকে সদস্য সচিব করা হয়। সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে চোরাচালান বিরোধী চার স্তরের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল।
এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এনবিআর চেয়ারম্যান ও পুনগঠিত টাস্কফোর্সের প্রধানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির প্রতিনিধি, আইজিপির প্রতিনিধি, এনবিআরের সদস্য (শুল্ক ও গোয়েন্দা), সকল বিভাগীয় কমিশনার, বিজিবি পরিচালকের প্রতিনিধি, এনএসআইয়ের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি, ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি, পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক, সকল কমিশনার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ও কাস্টমস হাউস এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের প্রতিনিধি প্রমুখ।
সভায় চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস হাউজ বেনাপোল, কাস্টমস হাউজ ঢাকা, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট রাজশাহী, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রাম, কাস্টমস এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট যশোর, বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয় রাজশাহী ও কাস্টমস এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর সার্বিক কর্মকা- ও দায়িত্ব কী হবে- তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।