বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য

56

gourbangla logoপ্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারও ভারত। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ ভারতের সঙ্গেই হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারের ওপর। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরাজমান বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেও তা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা সম্ভব। দরকার শুধু সদিচ্ছা ও সমতাভিত্তিক বাণিজ্যনীতি। বাংলাদেশের রফতানিযোগ্য পণ্যের ওপর অশুল্ক বাধা কমিয়ে আনার মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। নতুন সম্ভাবনার কথাও উচ্চারিত হচ্ছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌযোগাযোগ স্থাপিত হলে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। ভারত আমাদের চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে বরাবরই। এতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সেক্ষেত্রে বহুল ব্যবহারের কারণে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানোর জন্য উভয় বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন। তবে সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের রফতানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর এন্টি ডাম্পিং শুল্ক (বাজার দখলে কম দামে পণ্য ছাড়ার শাস্তিস্বরূপ শুল্ক) আরোপের সুপারিশ করেছে ভারতের ডাম্পিং নিয়ন্ত্রণকারী সরকারী প্রতিষ্ঠান ‘এন্টি ডাম্পিং এ্যান্ড এ্যালাইড ডিউটিস (ডিজিএডি)’। এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশের পাটপণ্য রফতানিকারকরা। বাংলাদেশ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের পাটপণ্য ভারতে রফতানি করেছে। ভারতে বাংলাদেশের মোট রফতানির ২০ শতাংশেরও বেশি হলো পাট ও পাটজাতপণ্য। এ অবস্থায় ওই শুল্ক আরোপিত হলে ভারতে বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি ডলারের পাটপণ্য রফতানি বাধাগ্রস্ত হবে এবং প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাংলাদেশী পাটের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাছাড়া এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ হলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্কে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বাংলাদেশের অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকার দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ওই শুল্ক আরোপ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা ব্যবসায়ী মহলের। ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ১২টি প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হচ্ছে কয়েক বছর ধরেই। এর মধ্যে বেশিরভাগই অবশ্য অবকাঠামো সমস্যা। আশার কথা হলো, বাংলাদেশ সরকার এসব সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগও নিয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণে চারটি বাধার কথা বলা হয়েছিল গত বছর সিপিডির একটি সেমিনারে। ব্যবসায়ীদের ওপর সমীক্ষার ভিত্তিতে একটি প্রবন্ধ প্রস্তুত করে প্রতিষ্ঠানটি। তাতে কথিত বাধাগুলো হলো অবকাঠামো দুর্বলতা, শুল্ক ও বন্দরসংক্রান্ত সুবিধাসমূহ, অশুল্ক বাধা এবং ঝামেলাপূর্ণ রফতানি-প্রক্রিয়া। আলোচকরা দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অশুল্ক বাধা ও আমলাতান্ত্রিক সমস্যার কথাটিও তুলেছিলেন। এটা ঠিক যে দুই দেশের বাণিজ্য সহজীকরণে স্থলবন্দর, রেলপথসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বাণিজ্য কার্যক্রমের জন্য এক স্থানে সব সুবিধা (সিঙ্গেল উইনডো ফ্যাসিলিটিজ) দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। ঢাকা ও দিল্লীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমানে যেসব ইস্যু বাধা হিসেবে কাজ করছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মূলত অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুগমতার সঙ্কট। ভারতে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে এসব সমস্যা সমাধানে করণীয় নির্ধারণ এবং পর্যালোচনা করা হবে, এমনটাই প্রত্যাশা। দেশের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা দরকার। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার এখনই সময়। এজন্য বাংলাদেশে আরও ভারতীয় বিনিয়োগের প্রয়োজন।