বাংলাদেশে তৈরি হবে সুতা তৈরির কাঁচামাল ‘ভিসকস’

54

gourbangla logoদেশি পাট থেকে সুতা তৈরির প্রধান কাঁচামাল ভিসকস তৈরি করতে চায় সরকার। এজন্য সরকারি পাটকলগুলোর মানোন্নয়ন করা হবে। এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে চীন। বিজেএমসির মিলগুলোতে শুধু কারিগরি সহায়তাই নয় প্রয়োজনে আর্থিক বিনিয়োগও করবে চীন। এ বিষয়ে একটি মিনিউটস অব ডিসকাশন ‘এমওডি’ স্বাক্ষরিত হয়। এতে স্বাক্ষর করে চীনের চায়না টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করপোরেশন ফর ফরেন ইকনোমিক এন্ড টেকনিকাল কো-অপারেশন (সিটিইএক্সআইসি) ও বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)।রাজধানীর একটি হোটেলে রবিবার সন্ধ্যায় এ ‘এমওডি’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার বিকেলে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। এ এমওডি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে চীনের ভাইস মিনিস্টার ও চায়না ন্যাশনাল টেক্সটাইল এন্ড এ্যাপারেল কাউন্সিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ওয়াং টিনকাই, চায়না ন্যাশনাল টেক্সটাইল এন্ড এ্যাপারেল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট সান রুইজি, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের ইকনোমিক ও কমার্শিয়াল কাউন্সিলর লি জুনানজু, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান কাজী মো আমিনুল ইসলাম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ কাদের সরকার, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোছলেহ উদ্দিন, বিজেএমসির চেয়ারম্যান ড মাহমুদুল হাসান, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো বায়জিদ সারোয়ারসহ চীনের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।এ সময় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বাংলাদেশ ও চীন বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেু বলেন,বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে চীন বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম দেশ। দু’দেশের নিয়মিত বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে।সেজন্য বস্ত্র ও পাটখাতে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঘটাতে চায়।বস্ত্র ও পাটখাতের রফতানি বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং পাট পণ্যের বহুমুখী দ্রব্য উৎপাদন, বাজার সম্প্রসারণ বিষয়ে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বিনিময় প্রত্যাশা করেন প্রতিমন্ত্রী।চীনের ভাইস মিনিস্টার ওয়াং টিনকাই বলেন, চীন সারা বিশ্বের চাহিদার ১৭ ভাগ সুতা উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু দিন দিন চীনের উৎপাদন কমছে। কেননা চীনে প্রাকৃতিক উৎস থেকে কাঁচামাল কমে আসছে। বিপরীত দিকে বাংলাদেশে প্রচুর কাঁচামাল রয়েছে কিন্তু প্রযুক্তিগত স্বল্পতা রয়েছে। আমরা কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে ভিসকস উৎপাদন করতে চাই। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যেচায়না ন্যাশনাল টেক্সটাইল এন্ড এ্যাপারেল কাউন্সিল ও বিজেএমসির মধ্যে এ এমওডি স্বাক্ষর হয়।উল্লেখ্য, ভিসকস দেখতে সুতার মত কিন্তু তার থেকেও সূক্ষ। এটা ব্যবহার হয় তুলার বিকল্প হিসাবে সুতা তৈরির কাজে। তবে শুধু গবেষণাগার নয় এই ভিসকসের ব্যবহার এখন বিশ্বজুরে সুতা তৈরির কারখানাগুলোতে হচ্ছে। তুলার উৎপাদন কমে আসায় গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার ৩৩ হাজার ৭৩৭ টন ভিসকস পৃথিবীরর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করেছে। এর মধ্যে চীন ও ভারত রয়েছে। দেশের বিজেআরআই ও বিসিএসআইআর এর বৈজ্ঞানিকগণ স্বীকার করেছেন যে, যেহেতু পাটে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ সেলুলোজ রয়েছে, সেহেতু পাট থেকে পাল্প তৈরি করে পুনরায় সেলুলোজ রি-জেনারেট করে ভিসকস তৈরি করা সম্ভব।