দৈনিক গৌড় বাংলা

মঙ্গলবার, ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন

দরজায় কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আর কদিন পরই শুরু হবে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ধুমধারাক্কা বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিতব্য নবম আসরে অংশ নেবে ২০টি দেশ। দল ঘোষণার পাশাপাশি প্রায় সব দেশই নিজেদের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন করেছে। তবে বাংলাদেশের জার্সি প্রকাশ নিয়ে ছিল লুকোচুরি। আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জার্সি কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ ছিল না। অবশেষে রোববার মধ্যরাতে উন্মোচিত হয়েছে টাইগারদের জার্সি। নতুন জার্সি নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সেজান লিংকন নামের এক ডিজাইনারের দাবি, তার নিজের করা ডিজাইন পছন্দ করে শেষ মুহূর্তে সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) রোববার রাতে নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জার্সির ছবি প্রকাশ করে। চিরায়ত নিয়ম মেনে জার্সিতে প্রাধান্য পেয়েছে গাঢ় সবুজ রঙ। পুরো জার্সিতেই বাঘের ডোরাকাটা হালকা ছাপ রয়েছে। কাঁধের লাল রেখাও নেমে গেছে বাঘের বহিরাবরণের আদলে। মাঝে হালকা হলুদ আর হাতের বর্ডারে থাকছে সোনালি রঙের ছাপ। জার্সিতে বাংলাদেশ এবং স্পন্সরের নাম রাখা হয়েছে সাদা রঙে। একই রঙে থাকছে বিশ্বকাপের লোগো। নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসানসহ বিশ্বকাপ দলের ১৫ সদস্যের সবাই বাংলাদেশের জার্সি পরে একসঙ্গে ছবি তুলেছেন। জার্সি প্রকাশের পর থেকে যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের জার্সির ছবি শেয়ার করে নানা রকম পোস্টে দিতে দেখা গেছে সমর্থকদের। সেখানে নেতিবাচক মন্তব্যের পাশাপাশি আছে ইতিবাচক মন্তব্যও। খলিল নামের এক ক্রিকেটপ্রেমী লিখেছেন, ‘জার্সি যেমনই হোক, আসল কাজটা মাঠে। মাঠের ক্রিকেট ভালো হলে জার্সি মেটার করে না। আশা করি, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা দিয়ে সবার মুখটা বন্ধ করে দেবে।’ রোববার মধ্য রাত্রে জার্সি উন্মোচনের বেশ কয়েকদিন আগে সেজান লিংকন বাংলাদেশের জার্সির ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আসলেই কি বাংলাদেশ টিম এই জার্সি পরবে। আল্লাহ মাফ করুক আমাদের বলুন আস্তাগফিরুল্লাহ।’ রোববার জার্সি উন্মোচনের পর নতুন করে আরও একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। সেখানে দাবি করেছেন, তার ডিজাইন নির্বাচিত হওয়ার পরও এমন ডিজাইনে কী করে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের জার্সি হতে পারে। তার করা ডিজাইনের ছবি প্রকাশ করে লিংকন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রিয় বিসিবি ও বোর্ড পরিচালকগণ, আপনাদের জানার জন্য এই ডিজাইনটি দিলাম। এই ডিজাইনটি অবশ্যই বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করবে। জার্সি তৈরির আগ মুহূর্তে আমাকে বলা হলো পাপন ভাই ডিজাইনটি নির্বাচন করেছেন। কিন্তু পাপন ভাই আপনি প্রকাশিত জার্সির ডিজাইনটা কীভাবে বেছে নিলেন? সত্যিই পাপন ভাই… এটা বন্ধ করতে হবে।

দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে আমাদের টিম ওয়ার্ক সব সময়ই দুর্দান্ত!’ এর বাইরেও অনেক ক্রিকেটপ্রেমী জার্সি নিয়ে যেমন সমালোচনা করেছেন। অনেকে আবার জার্সির প্রশংসায় পঞ্চমুখও ছিলেন। তাদের মধ্যে আনেয়োর মাহমুদ নামের এক ভক্ত লিখেছেন, ‘রাত ১২টা বাজে জার্সি উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ, যেন কেউ কিছু না বলতে পারে!’ হারুন উর রশিদ নামের আরেক ভক্ত জার্সির সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘ডিজাইন অতটা খারাপ না, চলবে। কিন্তু কাপড়ের মান ছবিতে যতটুকু দেখতেছি তাতে মনে হচ্ছে গুলিস্তান থেকে কেনা।’ শিমুল নামের আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘ভাবছিলাম বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ছবি কভার ফটো তে আপলোড দিবো। তা জার্সির যে অবস্থা আর দেয়া হলো না। যাইহোক শুভ কামনা টিম বাংলাদেশ।’ আব্দুল কাসেম নামের বাংলাদেশের এক ফ্যান নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টি-২০ বিশ্বকাপ জার্সি আমার পছন্দ হয়নি, জার্সি ডিজাইন একদম ভালো হয়নি।

একটি জার্সির মাধ্যমে প্লেয়ার, দল, দেশ ও জাঁতি সবকিছুর ইতিহাস ঐতিহ্য ভাবমূর্তি ফুটে উঠে। মানসম্মত জার্সির পেছনে কালার ডিজাইন ও কাপড়ের কোয়ালিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জার্সিটি মানসম্মত হলে প্লেয়ারদের মন চাঙা রাখে বাহির দিক থেকে প্লেয়ারদের স্মার্টনেস ও সৌন্দর্য বাড়ায় এবং দর্শক ও ভক্ত সর্মথকদের অনুপ্রাণিত ও আকৃষ্ট করে জার্সির প্রতি মনে দেশপ্রেম তৈরি করে।’ রামিন নামেন এক ক্রিকেটপ্রেমী সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ জার্সি একেবারে লিটন দাস-নাজমুল হোসেন শান্তর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের মতই সুন্দর।’ এদিকে, সোহগ দেওয়ান নামের আরেক ভক্ত পুরো দলকে উজ্জীবিত করেছেন এভাবে, ‘খুব সুন্দর জার্সিটা, শুভকামনা রইলো। নতুন জার্সিতে আশা করি ভালো কিছু হবে। সাকিব, মাহমুদউল্লাহর শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এটা। আর্জেন্টিনা ফুটবল টিমের মতো জুনিয়র যারা আছে তারা ভালো কিছু করে দেখাবে।’ ২০ দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে ৭ জুন, সেদিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ১০ জুন বাংলাদেশ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ১৩ জুন নেদারল্যান্ডস এবং ১৭ জুন নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে লাল-সবুজ বাহিনী।

About The Author