বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য দরজা খুলছে মালয়েশিয়ার

9

দীর্ঘ তিন বছর স্থগিত থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য পুনরায় খুলে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ান সরকার অনুমোদনও দিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ান সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
গতকাল রবিবার কুয়ালালামপুরে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং মালয়েশিয়া সরকারের মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান নিজ নিজ সরকারের পক্ষে এ সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন।
গতকাল রবিবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, কুয়লালামপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল দাতু মুহাম্মদ খাইর আজমান বিন মোহামেদ আনুয়ার, বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলমসহ উভয় দেশের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ার সরকার ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে স্থগিতাদেশ দেয়। তবে, ভ্রাতৃপ্রতিম এই দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত সুদৃঢ় থাকায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে মালয়েশীয় সরকারের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারপূর্বক বাংলাদেশী কর্মী পুনঃনিয়োগ শুরু করার লক্ষে উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির পরামর্শ এবং কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের অবিরাম কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশপাশি কূটনীতিকদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে মালয়েশিয়া সরকার সম্প্রতি তাদের স্থগিতাদেশ প্রতাহার করে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের অনুমোদন দেয়।
এমওইউ স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং অভিবাসীকর্মীদের প্রত্যাবাসনের আদর্শ কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশী কর্মীদের মালয়েশিয়া প্রান্তের সকল খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবেন। এর মধ্যে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি নিয়োগ, মালয়েশিয়ায় আনয়ন, আবাসন, কর্মে নিয়োজন এবং কর্মীর নিজ দেশে ফেরত প্রেরণের খরচ বহনের বিষয়টিও রয়েছে।
এমওইউ অনুযায়ী, নিয়োগকর্তা নিজ খরচে মালয়েশিয়ান রিক্রুটিং এজেন্ট নিযুক্ত করতে পারবেন। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর বাংলাদেশী কর্মীর ইমিগ্রেশন ফি, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ, ইনস্যুরেন্স সংক্রান্ত খরচ, করোনা পরীক্ষার ব্যয়, কোয়ারেন্টাইন সংক্রান্ত খরচসহ সকল ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা / কোম্পানি বহন করবেন। নিয়োগকর্তা কর্মীর মানসম্মত আবাসন, বীমা, চিকিৎসা এবং কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবেন।
এসব নিয়মাবলির সঠিক বাস্তবায়ন করা হলে কর্মীর অভিবাসন সংক্রান্ত খরচও অনেক কমে যাবে।