বাংলাদেশই এগিয়ে কর্মপরিবেশে: বাণিজ্যমন্ত্রী

53

02-বাংলাদেশের কারখানায় শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। রোববার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) একটি প্রতিনিধি দল তার কার্যালয়ে দেখা করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। ওই বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা (প্রতিনিধিদলকে) বলেছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭ শতাংশ বেসরকারি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে। সরকারি মালিকানাধীন ৩৫ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে। বাংলাদেশে বহিরাগত শ্রমিক নেতারা যদি সংকট সৃষ্টির চেষ্টা না করে, তাহলে আমাদের কারখানাগুলোতে কোনো সংকট নাই। “ইউএসএইড ও ইউকেএইড সরাসরি শ্রমিকদের সাথে কথা বলে একটি সার্ভে পরিচালনা করেছে। সরাসরি শ্রমিকদের সাথে কথা বলে তৈরি পরিদর্শন প্রতিবেদন তারা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে কারখানার শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন চায়, সেই ট্রেড ইউনিয়নের নেতা হতে হবে সেই কারখানার শ্রমিককেই। তারা ভোট দিয়ে তাদের নেতা তারা তৈরি করবে।” এ সময় তিনি ভিয়েতনাম ও চীনের ট্রেড ইউনিয়নের উদহারণ দিয়ে বলেন, “ভিয়েতনামে কোনো কারখানায় একটার বেশি ট্রেড ইউনিয়ন নাই, চায়নায় একটার বেশি ট্রেড ইউনিয়ন নাই। ভিয়েতনামে ট্রেড ইউনিয়নের নেতা হলেন মন্ত্রী।” তোফায়েল আহমেদ বলেন, “শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ বাংলাদেশে পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো।” আইএলও’র প্রতিনিধি দল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্কে জানতে চেয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি কর্মপরিবেশ ও বেতনভাতার বিষয়ে তাদের ধারণা দেন। ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন করতে বিভিন্ন মহলের তাগিদ এলেও বিষয়টি নিয়ে ‘জটিলতা’ থাকার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আশির দশকে আমরা যখন ইপিজেডে কারখানা স্থাপন করি, তখন বিনিয়োগকারীদের সাথে চুক্তিতে ট্রেড ইউনিয়ন হবে না বলা ছিলো। তার ভিত্তিতে তারা এখানে বিনিয়োগ করেছে। “এখন তাদের সাথে পরামর্শ করে ট্রেড ইউনিয়নের আদলে ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার আইন পাস করতে যাচ্ছি, যেটা ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে অনুমোদিত হয়েছে। এটা কারখানার ট্রেড ইউনিয়নের মতোই।” বাংলাদেশের কারখানার পরিবেশে অনেক উন্নতি ঘটেছে জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, “এখানে অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্স পরিদর্শন করে মাত্র ৩৪টা কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ পেয়েছে; তারমানে কারখানাগুলো ভালো অবস্থায় আছে। “রানাপ্লাজা ধ্বসের পর আমরা শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। রানা প্লাজা ধসের পর তিন বছরে আর ব্যাপক কোনো দুর্ঘটনা ঘটে নাই।” সম্প্রতি মার্কিন সরকারের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে।
“আজকে ইরাক যে অবস্থায় পরিণত হয়েছে, লিবিয়া যে অবস্থায় পরিণত হয়েছে, যদি বিদেশি হস্তক্ষেপ না হতো, তাহলে এসব দেশগুলো এই অবস্থায় পরিণত হতো না। “মানবাধিকার কীভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, সেটা যে অভিবাসীরা এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাচ্ছে, ইউরোপ হৃদয় দিয়ে সেটা উপলব্ধি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, কিছুদিন আগেও খবরের কাগজে দেখলাম, গুলি করে লোক মারে, যে মারে তাকেও গুলি করে শেষ করে দেওয়া হয়। সুতরাং বিচার বহির্ভূত হত্যাকা- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি হচ্ছে।” জঙ্গি ও নাশকতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ জঙ্গি উত্থানের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, এটা পৃথিবীর সকল মানুষই স্বীকার করে। এখানে যেভাবে আমরা জঙ্গি নাশকতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, সত্যিকার অর্থেই এটা খুব অনুসরণীয়, অনুকরণীয়। মানবাধিকারের নামে যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেটা সঠিক নয়।”