বর্ষীয়ান রাজনীতিক সাজেদা চৌধুরী আর নেই

4

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিক, সংসদ উপনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আর নেই।
গত রবিবার দিবাগত রাত ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে ও ১ মেয়েসহ আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের এই কা-ারী দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। সাজেদা চৌধুরী ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা) আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।
আওয়ামী লীগের সংকটকালে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা নিয়ে আগস্টের শেষের দিকে ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি হন তিনি।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরো অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক শোক বার্তায় তারা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
সাজেদা চৌধুরী ১৯৫৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সময়ে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ সময়ে কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
১৯৭২-৭৫ সময়ে বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক, ১৯৭২-৭৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ গার্ল গাইডের ন্যাশনাল কমিশনার এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯২ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বও তিনি পালন করেন।
একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি ফরিদপুর-২ আসন (নগরকান্দা, সালথা ও সদরপুর) থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়ী হন। দশম সাধারণ নির্বাচনেও তিনি এই এলাকা থেকে নির্বাচিত হন।
১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরা জেলায় মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তার পিতার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মাতা সৈয়দা আছিয়া খাতুন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০১০ সালে সাজেদা চৌধুরী স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রথম নামাজে জানাজার জন্য মরদেহ উপনেতার নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় নেয়া হয়। সোমবার বেলা ১১টায় সেখানকার সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে প্রথম জানাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পরিচালনা করেন নগরকান্দা মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ইসমাতুল্লাহ কাসেমী।
জানাজায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক আরিফ, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার মো. শাহজাহানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এরপর বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে সাজেদা চৌধুরীকে সমাহিত করা হয়।