বন্ধুত্বের বন্ধনের নীড় DUSFA-85 বয়স যেখানে কেবলই সংখ্যা

43

ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

রাজধানীর ব্যস্ততম আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের রুফটপ রেস্টুরেন্টের চিরচেনা দৃশ্য একটু ভিন্নতা পায় গত ১২ আগস্ট। দিনটিও ছিল ছুটির দিন, শুক্রবার। এদিন এখানে মিলনমেলায় বসেছিল বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক বিজ্ঞানী বন্ধু। বন্ধুত্বের মেলবন্ধন আরো দৃঢ় করার প্রয়াসেই ছিল সে আয়োজন। বন্ধুরা সবাই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ১৯৮৫-৮৬ সেশনের শিক্ষার্থী এবং এরা ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি সাইন্স ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশন (DUSFA)-৮৫’ ফোরামের বন্ধু-সদস্য।
বিজ্ঞানী বন্ধুরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিষয়ে ১৯৮৫-৮৬ সেশনে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সাথে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। এদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে পিএইচ.ডি. ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ নিবিড় বিজ্ঞান বিষয়ক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত; কেউ কেউ সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান / কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা / প্রধান নির্বাহী; কেউ কেউ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কেউ কেউ নিজস্ব ব্যবসা / উদ্যোগের স্বত্বাধিকারী। আবার কোনো কোনো বিজ্ঞানী বন্ধু মিডিয়া জগতের সাথেও জড়িত।
এ ধরনের মিলনমেলায় যেহেতু বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ সরকারি, বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমাবেশ ঘটায়; সেহেতু আলাপচারিতার মাধ্যমে ভেদাভেদ পরিহার করে সমন্বয়পূর্বক নৈতিকতার সাথে কৃচ্ছ্রতা সাধন করে কিভাবে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায় সে বিষয়ে এ ধরনের মিলনমেলা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
বন্ধুদের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় এবং যোগাযোগ আরো ত্বরান্বিত করতে এ ধরনের একটি উচ্চপর্যায়ে বন্ধুদের মিলনমেলার আয়োজন করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এ ক্ষেত্রে আমি একজন সৌভাগ্যবান। কেননা ১২০ জন বন্ধুর মোবাইল ফোন নম্বর আমি জোগাড় করতে পেরেছিলাম এবং সকলকেই ফোন করে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে যারা যোগদান করতে পেরেছে, তাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ। কারণ, অনুষ্ঠানকে সাফল্যম-িত করতে উপস্থিতির ভূমিকা প্রণিধানযোগ্য। তবে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তাদের নিকট একদিকে যেমন ক্ষমা প্রার্থনা করছি, অপরদিকে তাদেরকে স্ব-উদ্যোগে DUSFA-85-এর সাথে যোগাযোগ বাড়াতে অনুরোধ করছি। কারণ এ ধরনের দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উচ্চপর্যায়ের বন্ধুদের একত্র হওয়ার এত বড় প্ল্যাটফরম বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি আছে কি না, আমার সন্দেহ।
তাই এ বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করতে DUSFA-whatsApp / facebook group / massenger group / email / phone ইত্যাকার বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা যুক্ত হতে পারি। নিকট ভবিষ্যতে আমাদের সকলের নাম-ঠিকানা, ছবি সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটা বেইজ (ডিরেক্টরি হতে পারে) সৃষ্টি করার আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আর একটি কথা, ভবিষ্যতে DUSFA-85-বন্ধুদের সম্পৃক্ততায় জাতীয় ইস্যু / বিজ্ঞানভিত্তিক সেমিনার আয়োজনেরও ইচ্ছা রইল।
অনেকে নানাবিধ কারণে এ অনুষ্ঠানে আসতে না পারায় অমার নিকট দুঃখ প্রকাশ করেছে। তাই যারা অসুস্থতা বা নানাবিধ ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেনি, তাদের প্রতি রইল সমবেদনা। বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি আমাদের সেশনের বান্ধবীদেরকে, যারা চাকরির পাশাপাশি ঘরকন্না সামলিয়ে দ্বৈত কর্মব্যস্ততার মাঝেও আমাদের মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করে আনন্দের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে। অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের জীবনসঙ্গীদেরকেও জানাই অন্তরের অন্তস্তল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
আমরা সবাই এখন বয়সের ৫০ বছর অতিক্রম করেছি। অথচ এ অনুষ্ঠানের হাস্যোজ্জলতায় কাউকেই চল্লিশোর্ধ্ব মনে হয়নি। কার্জন হলের সময়কার পারস্পরিক খুনসুটি, প্রাপ্তবয়স্কদের জোকস, স্মৃতিচারণÑ সবই ছিল মনে রাখার মতো। এসব দেখে মনে হয়েছিল, এরা সবাই শতবর্ষী হবে (আল্লাহ্-তা-আলা সবাইকে সুস্বাস্থ্য সংবলিত শতবর্ষের জীবন দান করুন, আমিন)।
নগরের যান্ত্রিক জীবনে এ ধরনের আনন্দ মাঝে মাঝে উপভোগ করা এ বয়সের মানসিক-শারীরিক সুস্বাস্থ্যের জন্য দরকারি। আর কখনো কেউ যাতে এ ধরনের অনুষ্ঠান মিস না করে সে জন্য অনুরোধ করছি। আবারো সবাইকে (পরিবহন ও অন্যান্য সহায়তাকারী কর্মীগণ এবং পর্যটন ভবনের সংশ্লিষ্ট সকলসহ) ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে শেষ করছি। আমিন।
পুনশ্চ, অনুষ্ঠিত মিলনমেলার কতিপয় ছবি সংযুক্ত করা হলো।

লেখক : প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য, DUSFA-85 এবং বর্তমানে পিকেএসএফ-এর পর্ষদ সচিব হিসেবে কর্মরত