বছরের নবম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

2

কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব দিকের সাগর অভিমুখে উত্তর কোরিয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েকদিন আগে গতকাল শনিবার সম্ভবত পরীক্ষা চালানোর উদ্দেশ্যেই এ ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বলছে, তারা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেণপ শনাক্ত করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার কার্যালয়ও উত্তর কোরিয়ার ছোঁড়া বস্তুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে সন্দেহ করার কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার নিন্দা জানিয়ে দেশটির শাসকদের এ ধরনের আরও অস্থিতিশীল কর্মকা- থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর উত্তর কোরিয়া ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল।

এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষবার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল তারা; সেসময় দেশটি সামরিক নজরদারি উপগ্রহের ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছিল। পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যে এলাকায় অবস্থিত সেই সুনানের কাছাকাছি কোথাও থেকে শনিবারের উৎক্ষেপণটি হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। এর আগেও ওই এলাকা থেকে অনেকগুলো পরীক্ষা হয়েছে, সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারির উৎক্ষেপণও সেখান থেকেই হয়। এই পদক্ষেপ কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিরোধী বলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ব্লু হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার ‘বারবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার নজিরবিহীন’ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি)। দক্ষিণ কোরিয়া আরও নিবিড়ভাবে ইয়ংবিয়ন ও পুঙ্গি-রির মতো উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত স্থাপনাগুলোর নজর রাখবে, বলেছে এনএসসি। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নোবুয়ো কিশি বলেছেন, উত্তরের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। যে গতিতে উত্তর কোরিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্রযুক্তির অগ্রগতি ঘটাচ্ছে, আমাদের দেশ এবং আশপাশের অঞ্চল তা এড়িয়ে যেতে পারে না।

উত্তরের ছোঁড়া এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে ৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কিশি। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাবে গতকাল শনিবার ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি উঠেছিল ৫৬০ কিলোমিটার উপরে, পাল্লা ছিল ২৭০ কিলোমিটার। বুধবার হতে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যিনিই জিতুন না কেন, তাকে যে কোরীয় উপদ্বীপে সৃষ্ট উত্তেজনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তা-ই দেখাচ্ছে। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত আলোচনা স্থবির থাকার মধ্যে উত্তর কোরিয়া এ বছরের জানুয়ারিতে রেকর্ড সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। নিকট ভবিষ্যতে দেশটি একটি নজরদারি উপগ্রহ ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।