ফোর্বসের ক্ষমতার পাল্লায় পুতিনের পরেই ট্রাম্প

57

07-worlds-most-powerful-peopleমার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের বিচারে এবারও বিশ্বের ‘সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি’ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন; তার পরেই আছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার প্রকাশিত ২০১৬ সালের  এ তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল। ফোর্বসের বিচারে এক ধাপ পিছিয়েছেন তিনি। এরপরই আছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভ্যাটিকানের পোপ ফ্রান্সিস। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বর্তমান বিশ্বের নবম ‘ক্ষমতাধর’ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে ফোর্বস। এই তালিকার শীর্ষ অবস্থানটি টানা তিন বছর ধরে দখল করে আছেন পুতিন। গত বছরের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবার নেমে গেছেন ৪৮ নম্বরে। গতবারের তালিকায় ট্রাম্প ছিলেন ৭২তম অবস্থানে। ফোর্বস জানিয়েছে, ৭৪০ কোটি মানুষের এই বিশ্বে ‘মোস্ট পাওয়ারফুল’ ৭৪ জনকে বেছে নিতে তারা চারটি বিষয় বিবেচনা করেছে। ক্ষমতার বিস্তৃতি, আর্থিক প্রভাব, একাধিক ক্ষেত্রে ক্ষমতাশালী কিনা এবং ক্ষমতার ব্যবহারে কতখানি পারদর্শী- তা বিবেচনা করে ফোর্বস সম্পাদকদের একটি প্যানেল এই তালিকা তৈরি করেছে।
পুতিনকে এবারও তালিকার শীর্ষে রাখার যুক্তিতে বলা হয়েছে- গত এক বছরে নিজের দেশ, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সবক্ষেত্রেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তাই পেয়েছেন, যা তিনি চেয়েছেন। ট্রাম্পের বিষয়ে ফোর্বস বলছে, কোনো কেলেঙ্কারি, কোনো সমালোচনা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি, ক্ষমতায় বসার পথে তার জয়যাত্রা ছিল অব্যাহত। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষই এখন ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে এবং অর্থসম্পদের দিক দিয়েও তিনি ‘অনেক প্রভাবশালী’। তৃতীয় স্থানে থাকা মের্কেলকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেরুদ-’ অভিহিত করেছে ফোর্বস। তাদের এবারের তালিকায় মের্কেলসহ ছয়জন নারীর স্থান হয়েছে, যাদের মধ্যে টেরিজা মের নামও আছে। ব্রেক্সিট ভোটের পর টালমাটাল যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়া মের স্থান তালিকার ১৩ নম্বরে। ফোর্বসের এবারের তালিকায় থাকা ২৮ জন বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানির সিইও। তাদের প্রথম ১০ জনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাজারের আকার তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বলে ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তালিকার ৫৭ নম্বরে রয়েছে আইএস এর শীর্ষ নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির নাম। আল কায়েদা নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি আছেন ৭১ নম্বরে।   গত বছরের তুলনায় এই তালিকায় বড় রদবদল এসেছে এবার। এ বিষয়টিকে ‘বিশ্বের ক্ষমতাকাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত বলে মনে করছেন ফোর্বসের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর ডেভিড এওয়াল্ট। গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, ট্রাম্প ও তার বন্ধু-সহযোগীদের ক্ষমতার উত্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে এবারের তালিকা। ট্রাম্পের বিরোধীরা অনেকদিন ধরেই তাকে ‘পুতিনঘনিষ্ঠ’ অ্যাখ্যায়িত করে আসছেন। নতুন প্রশাসনে এক্সন মোবিলের প্রধান নির্বাহী রেক্স টিলারসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত করার পর এ আলোচনা আরও গতি পাচ্ছে। টিলারসনের সঙ্গে পুতিনের ঘনিষ্ঠতা আছে বলে দাবি করে আসছে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো। ট্রাম্পের আমলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিবাদ বাড়ার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক।
গার্ডিয়ান লিখেছে, হোয়াইট হাউজের পাশাপাশি সিরিয়ার আলেপ্পো এবং ব্রেক্সিটসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নানা ঘটনা এবারও পুতিনকে ফোর্বসের তালিকার শীর্ষে রাখতে ভূমিকা রেখেছে। এ তালিকায় রাশিয়ার মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অবস্থান ৪৯ নম্বরে। ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’র পর নাটকীয়ভাবে অবস্থান বদলে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নের ঘোষণা দেওয়া তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান আছেন ৫৬তম স্থানে। তালিকায় সৌদি বাদশা সালমানের অবস্থান ৫ নম্বরে; আর উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন ৪৩তম। এবারের তালিকায় নতুনদের মধ্যে উবারের প্রধান নির্বাহী ট্রাভিস কালানিক, ওয়াল্ট ডিজনির শীর্ষ নির্বাহী বব ইগার, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রদরিগো দোতার্তে ও জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের নামও রয়েছে।