দৈনিক গৌড় বাংলা

রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

ফেদেরারের পাশে জোকোভিচ

নোভাক জোকোভিচের আবারও অগ্নি পরীক্ষা নিলেন বছর পনের ছোট্ট লোরেঞ্জো মুসেত্তি! কিন্তু ভাগ্য দেবতা এবারও সুপ্রসন্ন ছিল না তাঁর প্রতি! তিন বছর আগে এই রোলাঁ গাঁরোতে চতুর্থ রাউন্ডের লড়াইয়ে সার্বিয়ান তারকার বিপক্ষে প্রথম দুই সেট জিতেও শেষ হাসি হাসতে পারেননি ২২ বছরের এই ইতালিয়ান। সেবার চোটের জন্য শেষ সেটটা না খেলে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল তাঁকে। প্যারিসের লাল দূর্গে এবারও একপর্যায়ে ২-১ সেটে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিজয়ের হাসি এবারও হেসেছেন ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী জোকোভিচই! ২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো শিরোপা এমনকি একটি ফাইনাল না খেলেও প্যারিসে এসেছেন জোকোভিচ। ফিটনেসের শঙ্কা উড়িয়ে শুরুও দুর্দান্ত করেছিলেন শীর্ষ বাছাই এই সার্বিয়ান। কিন্তু তৃতীয় রাউন্ডে তাঁকে ভড়কেই দিয়েছিলেন মুসেত্তি। পনের বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ফল নিয়ে বিদায়ের প্রবল শঙ্কায়ও পড়েছিলেন তিনি। প্রথম সেট জিতলেও পরের দুটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে হেরে ২-১ সেটে পিছিয়ে পড়েন। কিন্তু তিনি চ্যাম্পিয়ন, প্রতিকুলতায় কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে তা ভালোভাবে তাঁর জানা। আরেকবার ঘুরে দাঁড়ানোর দুর্দান্ত কাব্য রচনাও করলেন টেনিসের কোর্টে। প্রথম তিন সেটে সমান তালে লড়লেও শেষ দুই সেটে একদম প্রতিরোধ গড়তে পারেননি মুসেত্তি। ম্যাচ নির্ধারণী পঞ্চম সেটে তো এই ইটালিয়ান একটা গেমও জিততে পারেননি। সাড়ে চার ঘণ্টার মহাকাব্যিক লড়াইয়ে পাঁচ সেটের থ্রিলারে জোকোভিচ ম্যাচটা জেতেন ৭-৫, ৬-৭ (৬/৮), ২-৬, ৬-৩, ৬-০ গেমে। জোকোভিচ যখন কোর্টে নেমেছিলেন তখন স্থানীয় সময় রাত পৌনে এগারটা। আর জয় নিশ্চিত করার সময় প্যারিসের রাত তখন ৩টা ৭ মিনিট। মুসেত্তিকে হারিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেনের চতুর্থ রাউন্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনন্য এক কীর্তিও গড়েছেন জোকোভিচ। গ্র্যান্ড স্লামে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ে তিনি পাশে বসেছেন সুইজারল্যান্ডের কিংবদন্তি রজার ফেদেরারের। টেনিসের মেজর টুর্নামেন্টে এতদিন সর্বোচ্চ ৩৬৯ ম্যাচ জয়ে একক মালিকানা ছিল ‘ফেডেক্মের’। মুসেত্তির বিপক্ষে জয় এই কীর্তিতে ফেদেরারের পাশে বসিয়ে দিয়েছে জোকোভিচকে। চতুর্থ রাউন্ডে জিতলে এই রেকর্ডেও এককভাবে চুঁড়ায় বসবেন সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লামের মালিক জোকোভিচ। এএফপি

About The Author