ফল পরীক্ষার জন্য গাড়িতে মোবাইল ল্যাব করা হবে : কর্মশালায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান

83

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিরাপদ উপায়ে আম উৎপাদন, সংগ্রহ, পাকানো, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে জেলা পর্যায়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার নবাবগঞ্জ ক্লাব মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ কর্মশালার আয়োজন করে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাইউম সরকার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খুরশীদ ইকবাল রেজভী এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন- জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন, মাছ মাংস উৎপাদনেও পিছিয়ে নেই। আমাদের চিংড়ি এখন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্নভাবে উৎপাদন হচ্ছে, যে কারণে বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের আমও বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। আমাদের সবকিছুই এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে। এখন প্রয়োজন গুণগত মানসম্পন্নভাবে উৎপাদন করা। একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আমরা সবাই ভোক্তা; কিন্তু সবাই উৎপাদনকারী না। কাজেই যারা ভেজাল দেবেন বা কারবাইড দিয়ে আম পাকাবেন তারা কিন্তু কোনো না কোনোভাবে ভেজালের শিকার হবেন।
আমসহ যে কোনো ফলে কারবাইড ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে আব্দুল কাইউম সরকার বলেন- আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে সুস্বাদু অন্যান্য আমের পাশাপাশি ফজলি আমের উৎপাদন আরো বাড়াতে হবে। তিনি বলেনÑ আমসহ অন্যান্য ফল পরীক্ষার জন্য প্রতিটি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষাগার বা ল্যাব করা হচ্ছে। রাজশাহীতে ভবন নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। এটি হয়ে গেলে আপনারা সহজেই সেখানে আম পরীক্ষা করাতে পারবেন। এছাড়াও মোবাইল ল্যাব করা হবে। একটি গাড়ি থাকবে, সেই গাড়িই হবে ল্যাব। এই ল্যাব কানসাট, রহনপুরসহ যেখানে যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানেই চলে যাবে।
অংশীজনদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন- জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন- জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শামীম আহমেদ। সাংবাদিকদের মধ্যে প্রবীণ সাংবাদিক শামসুল ইসলাম টুকু ও স্বাধীন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফারুক আহমেদ চৌধুরী বক্তব্য দেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যোনতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোখলেসুর রহমান। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির এসইপি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মো. জহুরুল ইসলাম, আমচাষি মসিউল করিম বাবু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ আবু বাক্কার সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক, আমচাষি ও রপ্তানিকারক ইসমাইল খান শামীম।
কর্মশালায় আমচাষি ও ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।