পয়েন্ট হারিয়ে যা বললেন টেন হাগ

4

এরিক টেন হাগের চেহারাই বলে দিচ্ছিল সব কিছু। বিস্ময়, হতাশা, বিরক্তি, সবকিছু খেলে যাচ্ছিল যেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচের চোখেমুখে। তিন পয়েন্ট ছিল যখন আর তিন মিনিটের দূরত্বে, তখন গোল হজম করে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি। ম্যাচ শেষে কোচ আক্ষেপ করলেন আরেকটি গোল করতে না পারায়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে বুধবার ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রুনো ফের্নান্দেসের গোল ইউনাইটেডকে এগিয়ে রাখে ৯০ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মাইকেল ওলিসের জাদুকরি ফ্রি কিক স্তব্ধ করে দেয় ইউনাইটেড শিবিরকে আর উল্লাসে মাতিয়ে তোলে ক্রিস্টালের গ্যালারিকে।

ওই গোলে ছেদ পড়ে ইউনাইটেডের জয়যাত্রায়। এই ম্যাচের আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচ জিতেছিল তারা। সবশেষ এই ক্লাব টানা ১০ ম্যাচ জিতেছিল কিংবদন্তি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের কোচিংয়ে ২০০৯ সালে। টেন হাগের দল তা পারল না একটুর জন্য। সুযোগ হারাল পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে ওঠারও। শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ টেন হাগ। তার মতে, আরেকটি গোল করে আগেই জয় নিশ্চিত করে ফেলা উচিত ছিল তার দলের। “দুর্ভাগ্যজনক একটি মুহূর্তে এভাবে গোল হজম করাটা হতাশাজনক, কারণ এরপর আর ফেরার সময়ই ছিল না তেমন। দ্বিতীয় গোলের জন্য আরও চেষ্টা করতে হবে আমাদের, যাতে এরকম একটি মুহূর্তে পয়েন্ট হারাতে না হয়।

১-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম আমরা, দ্বিতীয়ার্ধে আরও এগিয়ে গিয়ে খেলা শেষ করার অনেক সুযোগ ছিল। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়নি আমরা দ্বিতীয় গোলের জন্য যথেষ্ট মরিয়া ছিলাম।” “দ্বিতীয় গোলের চেষ্টা করা উচিত ছিল আমাদের। ২-০ হলেই খেলা শেষ হয়ে যেত। আমাদের মনে হয়েছিল, খেলা আমাদের নিয়ন্ত্রণেই। কিন্তু ফুটবলে একটি মুহূর্তই সবকিছু বদলে দিতে পারে এবং এই ম্যাচ থেকে এটাই আমরা শিখতে পারি।” দ্বিতীয় গোলের একটি বড় সুযোগ অবশ্য তৈরি হতে পারত ৭৩তম মিনিটে। ক্রিস রিচার্ডসের চ্যালেঞ্জে বক্সের ভেতর পড়ে যান স্কট ম্যাকটমিনে। পেনাল্টির জোর দাবি জানায় ইউনাইটেড।

তবে রেফারি পেনাল্টি দেননি, সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ভিএআর। রিপ্লে দেখে যদিও অনেকে মনে করতেই পারেন, ইউনাইটেডের দাবির পক্ষে যুক্তি ছিল যথেষ্টই। তবে এটিকে কোনো অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতেই চান না টেন হাগ। “রেফারি ও ভিএআর-এর সিদ্ধান্ত মেনে নিতেই হবে। আমি যদি আয়নায় তাকাই, নিজের দলের দিকে দেখি, নিজের ব্যবস্থাপনা ও কোচিংয়ের কথা যদি বলি, তাহলে বলতে হবে যে আমাদেরকে দ্বিতীয় গোলের জন্য আরও চেষ্টা করতে হবে যেন রেফারি বা ভিএআর, এসবের ওপর নির্ভর করতে না হয়। এটাই করতে হবে আমাদের।” পরের ম্যাচে কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে ইউনাইটেডকে। আগামী রোববার তাদের প্রতিপক্ষ শীর্ষে থাকা আর্সেনাল।