প্রয়াসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান

14

প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির তিনটি সহযোগী সংগঠন রয়েছে। সংগঠন তিনটি হলোÑ কমিউনিটি রেডিও ‘রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফএম’, ‘প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট’ ও ‘প্রয়াস হেলথ কেয়ার’। প্রয়াসের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠন তিনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে রেডিও মহানন্দা জেলার সামাজিক উন্নয়নে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং এর প্রচার ও প্রসারে সক্রিয় থেকে সাধারণ মানুষের আকুণ্ঠ ভালোবাসা ও প্রশংসা কুড়িয়েছে। জেলার কৃষ্টি-কালচার তুলে ধরার চেষ্টা করছে প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট। এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া লোকসংস্কৃতিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে গবেষণা ও চর্চাও চালিয়ে যাচ্ছে ইনস্টিটিউটটি।

কমিউনিটি রেডিও-রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফএম
প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত স্থানীয় সম্প্রচার ব্যবস্থা রেডিও মহানন্দা, যা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গণমানুষের কল্যাণে সর্বদা নিবেদিত এবং সদা জাগ্রত। কমিউনিটিভিত্তিক সক্রিয় একটি গণমাধ্যম। রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফএম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক রেডিও স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন প্রাপ্ত হয় ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট; রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী ও তানোর এবং নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার কিছু অংশবিশেষসহ ৮টি উপজেলা ৪২টি ইউনিয়ন যা আকাশ পথে ১৭ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ এলাকার ৯৮.৮ এফএম ব্যান্ডে বিকাল ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত শোনা যায়। এছাড়াও অনলাইনে ২৪ ঘণ্টা দেশ-বিদেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে রেডিও মহানন্দা শোনা যায়।
রেডিও মহানন্দা মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও তৎসংলগ্ন জনগোষ্ঠীকে সহজে তথ্যে প্রবেশাধিকার দিয়ে, শহর ও গ্রামের মধ্যে তৈরি হওয়া তথ্য এবং জ্ঞান বিভাজন দূর করে, গণমাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে তথ্য বিনিময়, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শিক্ষা ও উন্নয়নে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় অবাধ ও বন্তুনিষ্ঠ তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে সেতুবন্ধন হয়ে কাজ করে।

প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাসখচিত গ্রাম চাঁপাই, এই ঐতিহাসিক গ্রামের পাশেই অবস্থিত গোকুল। ছিল রাজবাড়ি। অবশ্য ভুল হলো, এখন রাজাও নেই, রাজবাড়িও নেই। তবে গ্রামটি এখনো মাথা উঁচু করে ইতিহাসের ঐতিহ্য বহন করছে। আর এই ইতিহাসের রূপ দিয়েছেন চাঁপাই গ্রামে বসবাসরত চম্পাবতী। যার নামটি আমাদের কাছে দিন দিন অপরিচিত হয়ে যাচ্ছে। নতুনদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস। কারো কারো ভাবনায় ইতিহাসটি থাকলেও তা বক্তব্য বা লেখালেখির মধ্যে সীমাবদ্ধ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁপাই গোকুল ও চম্পাবতীকে নিয়ে অনেক গভীরে ভেবে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন চাঁপাই গ্রামে জন্ম দিয়েছেন প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করছে প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট। নীরবেই চালিয়ে যাচ্ছে যুদ্ধ। প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট সুস্থ সমাজ গঠনে বিকল্প ধারার সাংস্কৃতিক সংগঠন। আজ থেকে ১৩ বছর আগে ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির সহযোগী সংগঠন হিসেবে এর আত্মপ্রকাশ ঘটে।

প্রয়াস হাসপাতাল
মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে চিকিৎসা একটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। বাংলাদেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বল্পমূল্যে সুচিকিৎসা প্রদানের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র শান্তি মোড়ে ‘প্রয়াস হেলথ কেয়ার’। যার পথচলা শুরু হয় ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট।
মাঠপর্যায়ে অতিদরিদ্র মানুষের পাশে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সদর উপজেলাসহ নাচোল উপজেলায় অবস্থিত প্রয়াসের বিভিন্ন ইউনিটের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হয়। প্রতিটি ইউনিটে একজন করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ৮ থেকে ১০ জন করে স্বাস্থ্য পরিদর্শক নিয়োগ দেয়া হয়। স্বাস্থ্য পরিদর্শকগণ প্রতিদিন ৩০-৩৫টি পরিবারের সাথে স্বশরীরে যোগাযোগ করেন এবং খোঁজখবর নিয়ে তাদের ওজন, রক্তচাপ, শরীরের তাপমাত্রা মাপেন এবং অন্যান্য প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ দেন। প্রয়োজনবোধ করলে ইউনিটে অবস্থিত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে মোবাইলের মাধ্যমে অবহিত এবং তার উপস্থিতি কামনা করেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অবহিত হলে অতি অল্পসময়ে উপস্থিত হয়ে সাধ্যমত সেবা প্রদান করেন। এছাড়াও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রতিটি সমিতিতে গিয়ে সদস্যদের খোঁজখবর নিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিটে গরিব ও অতিদরিদ্র সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করার জন্য প্রতি মাসে চক্ষু, দন্ত, মেডিসিন ও গাইনি রোগীদের জন্য চারজন করে বিভাগভিত্তিক এমবিবিএস চিকিৎসক দ্বারা বিনামূল্যে স্যাটেলাইট সেবা প্রদান করা হয়। প্রতিটি স্যাটেলাইটে প্রায় ৪০-৫০ জন করে রোগীদের সেবা দেয়া হয়। প্রতি ৬ মাস পর পিকেএসএফের অর্থায়নে রানীহাটি, গোলাপেরহাট, নেজামপুর ও হাটবাকইলে সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় বিভাগভিত্তিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা স্বাস্থ্য ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় ১০০-১৩০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকগণ জরুরি ও জটিল রোগীকে উন্নত চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রয়াস হেলথ কেয়ারে পাঠান কিংবা নিয়ে আসেন।
প্রয়াস হেলথ কেয়ার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন প্রতিষ্ঠান। এখানে সুদক্ষ জনবল দ্বারা স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে সব ধরনের রক্ত ও প্রেসার পরীক্ষা, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, দন্ত ও ইসিজি করা হয়। প্রতিদিন সকালে ডায়াবেটিক ও মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক দ্বারা এখানে অতি অল্প খরচে সুচিকিৎসকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও প্রতি শুক্রবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা গাইনি, মেডিসিন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিক, শিশু, অর্থপেডিকস রোগীদের সুচিকিৎসা দেয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে।

ধামা
সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্টের আওতায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির ই-কমার্স সাইট dhama.com.bd এর শুভ উদ্বোধন হয় ২০২১ সালের ৩০ জুন। উদ্বোধক ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।
প্রয়াস বাংলাদেশের আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মুখ্য ফসল নিরাপদ আম উৎপাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের লক্ষে Safe Mango Promotion Through Learning (SAMPLE) প্রকল্প গ্রহণ করে; যা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির একটি অনন্য প্রকল্প। বিশ্বায়নের এই সময় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মেলবন্ধন করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে অনলাইন মার্কেট। আর এই কাজটিও সম্পূর্ণ হচ্ছে প্রয়াসের অনলাইন মার্কেটপ্লেস dhama.com.bd এর মাধ্যমে; যেখানে দেশের সর্বত্র থেকে আমের অর্ডার নিয়ে ভোক্তাদের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ঢাকার কিছু বিশেষ বিশেষ এলাকায় শর্তসাপেক্ষে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও রয়েছে।
dhama.com.bd এর ওয়েবসাইটে এসইপি প্রকল্পের আওতাধীন আমচাষিদের বাগানের বর্ণনা দিয়ে যোগাযোগের ব্যবস্থাও রয়েছে। তাই ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের বাগানের আম খেতে পারবে এবং যেগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে উৎপাদিত। তাই এমইদের অনলাইন মার্কেটিংয়ের একটা সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে এই প্রকল্প। এটি চলমান থাকলে আমচাষিরা উপকৃত হবেন। এছাড়া ধামায় রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার খ্যাতনামা খাদ্যদ্রব্যসহ বাহারি পণ্যের সমাহার। যেমন- কালাইয়ের আটা, চালের আটা, ছাতু, কুমড়ো বড়ি, আমসত্ত্ব, আমচুর, আচার, কালাই ডাল, প্রয়াস মধু, নকশীকাথাঁ, কাঁসা-পিতলের তৈজসপত্র। প্রয়াসের নিজস্ব খামারে লালন-পালনকৃত গরু, ছাগল, গাড়ল, ভেড়া অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া প্রয়াস নার্সারির বিভিন্ন জাতের গাছের চারা ও ভার্মি কম্পোস্ট সারও পাঠানো হয়।

প্রয়াস এগ্রো
প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি’র আরেকটি অন্যতম উদ্যোগ ‘প্রয়াস এগ্রো’। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলায় প্রয়াস এগ্রো কাজ করছে।।
বাংলাদেশ হচ্ছে কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ সেক্টরসহ অন্যান্য কৃষিজ পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণে উদ্যোগী হয়ে বহুমুখী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রয়াস এগ্রো যাত্রা শুরু করেছে।
বলা যায়, কৃষিভিত্তিক কার্যক্রম দিয়েই প্রয়াসের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ‘প্রয়াস এগ্রো’ সে কাজটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়াস এগ্রোর উদ্যোগে নার্সারি, ভার্মি কম্পোস্ট, ট্রাইকো কম্পোস্ট, নিরাপদ ফল উৎপাদনে ইকোলিজিক্যাল গার্ডেন, মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে ‘বীজ ডিলারশিপ’, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের ব্রিডিং খামার, ভেড়া (গাড়ল) ব্রিডিং খামার, টার্কি প্যারেন্টস্টক ও ব্রিডিং খামার, কুচিয়া ব্রিডিং খামার, দুম্বা ব্রিডিং খামার, ডেইরি ফার্ম, প্রয়াস মধু, ড্রাই ফুড প্রসেসিং কারখানা ইত্যাদি স্থাপন করা হয়েছে।
নিরাপদ কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে প্রয়াস এগ্রো বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী স্থাপন ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মধ্য দিয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করে যাচ্ছে।

প্রয়াস আইটি
বর্তমান যুগ তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। এ যুগের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে প্রযুক্তির সংযুক্তি সকল ক্ষেত্রে এসেছে। বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। আর বিশ্বকে হাতের মুঠোয় আনতে সাহায্য করেছে ইন্টারনেট তথা তথ্যপ্রযুক্তি। তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে এখন বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ সহজতর হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সকল বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টায় নিবেদিত। এরই ধারাবাহিকতায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
একসময় হাতে লিখে নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো। বর্তমান সময়ে প্রয়াস ক্ষদ্রঋণ কার্যক্রমের সকল বিষয়াদি; যেমন- সঞ্চয়, ঋণ আবেদন, যাচাই, অনুমোদন, প্রদান, আদায়, প্রতিবেদনসহ যাবতীয় হিসাব সম্পর্কিত কার্যক্রম সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিপালন করছে। মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের আওতায় কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া, কর্মী প্রোফাইল, ছুটি, হাজিরা, মুভমেন্ট, পিএফ ও জিএফ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদিও এখন সফটওয়্যারের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। শুধু প্রধান কার্যালয়ই নয়, প্রয়াসের বিভিন্ন ইউনিট অফিসও নিজস্ব সার্ভারের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়াও প্রয়াসের বাইরে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার সরবরাহসহ ব্রডব্যান্ট ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে।
তথ্য নিরাপত্তার জন্য প্রয়াস বাইরের কোনো সার্ভার ব্যবহার না করে নিজে দুটি সার্ভার স্থাপন করেছে এবং নিজেদের তৈরি সকল সফটওয়্যার সেই সার্ভারের মাধ্যমে ব্যবহার করছে। এছাড়াও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্যপ্রযুক্তির সেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রয়াস আইটি।

প্রয়াস মধু
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনে রয়েছে মৌসমৃদ্ধ ফুলের বিশাল সমারোহ। এসব উৎস থেকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মৌ চাষের মাধ্যমে মধু উৎপাদনের পাশাপাশি ফুলের সঠিক পরাগায়ন ঘটিয়ে কৃষিজাত শস্য ও ফলের উৎপাদন তথা যে কোনো ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গুণগত মানোন্নয়ন সম্ভব যা বাংলাদেমের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মধ্যদিয়ে বেকার সমস্যা দূরীকরণ এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ‘প্রয়াস এপিকালচার’ প্রোগ্রাম নামে একটি কর্মসূচি হাতে নেয়ার পর নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রয়াস এপিকালচার প্রোগ্রামের মাধ্যমে মৌ চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ, দক্ষ মৌচাষি তৈরি করা, মৌ চাষ কার্যক্রমের সক্ষমতার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে মৌ চাষের প্রসার ঘটানো, ফুলের পতঙ্গবাহী পরাগায়ন ঘটিয়ে ফসলের উৎপাদনের বৃদ্ধি নিশ্চিত করছে। মৌচাষিদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা। মধুর সঠিক ব্যবহার পুষ্টিগুণ ও গুণগতমানের পরিচিতি ঘটানো। মধুর সঠিক মান নিশ্চিতকরণ। মৌ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদান।
বর্তমানে বাংলাদেশের ফসলে জমিতে বা ফল-ফুলের বাগানে মৌ বাক্স স্থাপনে কৃষকের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। মধুর গুণগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ধরে রাখা হচ্ছে। গুণগতমানের কারণে ভোক্তা বেড়েছে, বাজারেও বেড়েছে প্রয়াস মধুর আগ্রহ। পাশাপাশি প্রয়াস মধুর উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মৌ চাষের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো।

প্রয়াস সুপার শপ
প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি তার ইউনিটসমূহের প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের জন্য চালু করেছে ‘প্রয়াস সুপার শপ’। এ শপের মাধ্যমে স্টেশনারি সামগ্রী থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে।