প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’

4

ব্রিটিশবিরোধী ও স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দেশের জন্য জীবন বিলিয়ে দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। যুগের পর যুগ ধরে উপমহাদেশে তিনি নারীদের কাছে এক অমিত প্রেরণার নাম। তার বীরত্ব ভরা জীবন ঠাঁই পেয়েছে সাহিত্য আলোচনায়। এবার প্রীতিলতাকে দেখা যাবে রুপালি পর্দায়। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ থেকে সিনেমা নির্মাণ করেছেন প্রদীপ ঘোষ। সিনেমার নাম ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’।

গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির টিজার। সিনেমায় প্রীতিলতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। টিজারে বিভিন্ন লুকে দেখা গেছে তাকে, যা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগ্রহী করে তুলেছে দর্শককে। জানা গেছে, অপেক্ষার পালা ফুরোতে চললো। ১৮ নভেম্বর সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সরকারি অনুদানের এই ছবিটি। এমনটাই জানালেন পরিচালক প্রদীপ। তিনি বলেন, ‘আমরা সিনেমার সকল কাজ সম্পন্ন করেছি। দুই একদিনের মধ্যে সেন্সর বোর্ডে ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’ আনকাট জমা দেওয়া হবে। আশা করছি ৭ দিনের মধ্যেই ছাড় পত্র পেয়ে যাবো। যদি কোনো সমস্যা না হয় তাহলে এই মাসের ১৮ তারিখ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হবে।’ এ সময় সিনেমার প্রচার নিয়ে গুণী এই নির্মাতা আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে সিনেমার প্রচার শুরু হয়েছে।’ কী থাকছে প্রীতিলতাকে নিয়ে নির্মিত এই সিনেমায়?

পরিচালক বলেন, ক্রেইগ হত্যা মামলায় আরেক বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাস আলীপুর জেলে আটক ছিলেন। জেলেই তার সঙ্গে প্রীতিলতা দেখা করেছিলেন ৪০ বার। সূর্যসেনের নির্দেশ ছিল একজন বিপ্লবী আরেকজন বিপ্লবীর সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। কিন্তু প্রীতিলতা সেই নির্দেশ অমান্য করেছিলেন। কিন্তু কেন? কী এমন টান ছিল প্রীতিলতার? হয়তো রামকৃষ্ণকে পছন্দ করতেন, ভালোবাসতেন প্রীতিলতা! চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের পর প্রীতিলতা বিষপান করে জীবন উৎসর্গ করেন। তার পোশাকের পকেটে পাওয়া যায় রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ছবি। এ থেকে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের বিশ্বাস দৃঢ় হয়। আর সেই বিশ্বাস থেকে প্রীতিলতার মনে গোপন করে রাখা ভালোবাসা নিয়ে সেলিনা হোসেন লিখেছেন ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ উপন্যাস। সেই গল্পটিই উঠে আসবে সিনেমায়। বিপ্লবী প্রীতিলতার ভালোবাসার গল্প। ছবিতে বিপ্লবী রামকৃষ্ণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনোজ প্রামাণিক। ২০১৯-২০ অর্থবছরের সরকারি অনুদান পায় সিনেমাটি।