দৈনিক গৌড় বাংলা

মঙ্গলবার, ২৮শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

প্রান্তিক মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় বড় সম্পদ হবে
সর্বজনীন পেনশন বিষয়ক আলোচনায় জেলা প্রশাসক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে উপজেলা পর্যায়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুষ্ঠু ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করে সদর উপজেলা প্রশাসন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন।
সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রান্তিক মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় একদিন বড় সম্পদে পরিণত হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আহ্বান সাড়া দিয়ে সকলকে এই পেনশন স্কিমের আওতায় আসতে হবে। আপনারা সকলেই রেজিস্ট্রেশন করবেন। এ সময় জেলা প্রশাসক প্রান্তিক মানুষের জন্য সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় জমিসহ ঘর, কৃষিতে প্রণোদনা, বিভিন্ন ধরনের ভাতার কথা তুলে ধরেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. তাছমিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তোসিকুল আলম বাবলু ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আখতার।
সর্বজনীন পেনশন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মাহেদুর রহমান, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির এসপিও শামীম আহমেদ ইকবাল ও সিটি ব্যাংকের এরিয়া ম্যানেজার মো. ইকবাল জুবেরী।
সভায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পুরুষ ও মহিলা সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সর্বজনীন পেনশন বিষয়ক হেল্প ডেস্ক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন।
সভায় জানানো হয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল বাংলাদেশী নাগরিক অংশ নিতে পারবেন। তবে বিশেষ বিবেচনায় পঞ্চাশোর্ধ্ব নাগরিকগণও ১০ বছর নিরবচ্ছিন্ন চাঁদা প্রদান করলে আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন; প্রবাস থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় প্রেরিত চাঁদার ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যাবে। এ প্রণোদনার অর্থ তার চাঁদা হিসেবে জমা হবে; ব্যাংকে সরাসরি গিয়ে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে চাঁদার টাকা জমা দেওয়া যাবে; প্রবাসী স্কিমে অংশগ্রহণকারীগণ ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রায় মাসিক চাঁদার টাকা জমা দিবেন; আবেদনের সময় চাঁদাদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক; মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থও আয়কর মুক্ত থাকবে;
নির্ধারিত ফরমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে, যার বিপরীতে আবেদনকারীর অনুকূলে একটি ইউনিক আইডি প্রদান করা হবে; মোবাইল নম্বর ও প্রবাসীদের ইমেইলের মাধ্যমে ইউনিক আইডি নম্বর, চাঁদার হার এবং মাসিক চাঁদা প্রদানের তারিখ অবহিত করা হবে; সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সম্মুখ অফিস হিসেবে কাজ করবে; পেনশনের টাকা তোলার জন্য কোনো অফিসে যেতে হবে না; আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেনশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে; পেনশন স্কিম ও চাঁদার হার যে কোনো সময় পরিবর্তন করা যাবে। তবে, পেনশনার আইডি অপরিবর্তিত থাকবে।
প্রগতি স্কিম : বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীদের জন্য এ সুবিধা। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অথবা নিজ উদ্যোগে এককভাবে এ স্কিমে যুক্ত হওয়া যাবে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে যোগ দিলে স্কিমের চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মী এবং বাকি অংশ প্রতিষ্ঠান দিবে। মাসিক চাঁদার হার ২০০০, ৩০০০ ও ৫০০০ টাকা।
সমতা স্কিম : দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী (যাদের আয়সীমা বাৎসরিক অনূর্ধ্ব ৬০ হাজার টাকা) স্বল্প আয়ের নাগরিকগণের জন্য এই স্কিম। সমতা স্কিমে মাসিক চাঁদার হার ১০০০ টাকা। যার মধ্যে চাঁদাদাতা জমা দিবেন ৫০০ টাকা এবং বাকি ৫০০ টাকা দিবে সরকার।
প্রবাস স্কিম : বিদেশে অর্জিত অর্থ থেকে নিরাপদ সঞ্চয়ের লক্ষে প্রবাস স্কিমে চাঁদা প্রদান করলে ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে; প্রবাস স্কিমে বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় চাঁদা প্রদানে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন। এ প্রণোদনার অর্থ তার চাঁদা হিসেবে জমা হবে। প্রবাস স্কিমে অংশগ্রহণকারী প্রবাসী কর্মী ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সহজেই সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে চাঁদার অর্থ জমা দিতে পারবেন।
পেনশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে চাঁদাদাতাকে কোনো অফিসে আবেদন করতে হবে না । নিরবচ্ছিন্ন ১০ বছর চাঁদা প্রদান করলে ৬০ বছর পূর্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে EFT (Electronic Fund Transfer) এর মাধ্যমে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাসিক পেনশনের টাকা জমা হবে। প্রবাস স্কিমে অংশগ্রহণকারী প্রবাসী কর্মী দেশে ফেরত আসলে অন্য স্কিমে (প্রগতি, সুরক্ষা) চাঁদাদাতা হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রবাস স্কিমে অংশগ্রহণকারী চাঁদাদাতা ৩ মাস, ৯ মাস ও ১২ মাসের চাঁদা একসাথে জমা প্রদান করতে পারবেন। প্রবাস আয় থেকে দেশে প্রেরিত অর্থের বৃহৎ অংশ সাংসারিক প্রয়োজনে ব্যয় হয়। প্রবাস পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ করলে প্রবাসী কর্মী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করে ভবিষ্যতে যখন কর্মহীন হবে তখন এ অর্থ ব্যয় করতে পারবে। প্রবাসী কর্মী নিজ নামে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে এ স্কিমে অংশগ্রহণ করবে, তাই এ কার্যক্রমে ৩য় কোনো ব্যক্তির হস্তক্ষেপ থাকবে না। যেহেতু সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নমিনী রাখার সুযোগ রয়েছে তাই কোনো কারণে প্রবাসী চাঁদাদাতা মৃত্যুবরণ করলে জমাকৃত সকল অর্থ মুনাফাসহ নমিনীকে ফেরত প্রদান করা হবে।
সুরক্ষা স্কিম : স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য এ স্কিম। কৃষক, রিকশাচালক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, গৃহিণী, তাঁতিসহ সব অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ নির্ধারিত হারে চাঁদা প্রদান করে এ স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন। মাসিক চাঁদার হার ১০০০, ২০০০, ৩০০০ ও ৫০০০ টাকা।

About The Author

This will close in 0 seconds