প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বর্ণবাদী স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড!

1

স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের বিপক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগটা এতই গুরুতর ছিল, স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার আগেই নিজেদের দোষটা স্বীকার করে নেয় ক্রিকেট স্কটল্যান্ড। তাই পুরো বোর্ড পদত্যাগ করে ফেলেছে আগেই। স্বাধীন তদন্ত কমিটিও জানাচ্ছে, বোর্ডের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতেও ছড়িয়ে ছিল বর্ণবাদ। তদন্তের কাজটি করেছে প্ল্যানফরস্পোর্ট। তারা প্রমাণ পেয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের ৩১টি সূচকের মধ্যে ২৯টি সূচকে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড বর্ণবাদ রুখতে ব্যর্থ হয়েছে। তদন্তে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের ৪৪৮টি উদাহরণ মিলেছে। মূলত ২০২১ সালের নভেম্বরে মাজিদ হক, কাসিম শেখ ও অন্যরা বর্ণবাদের অভিযোগ করলে তদন্তের কাজটি শুরু হয়।

শুরুতে অফস্পিনার মাজিদ স্কাই স্পোর্টসের কাছে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের অভিযোগটি করেছিলেন। এর পরেই বিষয়টি নজরে চলে আসে। অবশ্য মাজিদের ঘটনার নেপথ্যে ছিল একটি টুইট। স্কটল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি মাজিদ ২০১৫ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে একটি টুইট করেছিলেন। একটি ম্যাচে জায়গা না হওয়ায় বলেছিলেন, ‘আপনি যখন সংখ্যালঘু হয়ে দাঁড়াবেন। তখন সব কিছুই কঠিন হয়ে যাবে।’ বর্ণবাদের ইঙ্গিত থাকায় এরপর থেকে বোর্ডের রোষানলে পড়ে যান ৫৪ ওয়ানডে ও ২১টি টি-টোয়েন্টি খেলা এই অফস্পিনার। তাকে শাস্তি হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে বাড়িও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ওই ঘটনার সূত্র ধরে মাজিদ স্কাই স্পোর্টসকে বলেছিলেন, ‘ওই ঘটনার পর আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করা হচ্ছিল, যেন অপরাধী।’ পুরো বোর্ড তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগেই পদত্যাগ করায় এখন ক্রিকেট স্কটল্যান্ড বিশেষ ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে। যার নিয়ন্ত্রণে থাকবে স্কটল্যান্ডের জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা স্পোর্টসস্কটল্যান্ড। তারা আগামী বছরের অক্টোবর পর্যন্ত এই কাজটি করবে। তবে এই বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন বোর্ড গঠন করার একটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেখানে থাকতে হবে ৪০ শতাংশ পুরুষ ও ৪০ শতাংশ নারী সদস্য। সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী থেকেও থাকতে হবে ২৫ শতাংশ সদস্য।