প্রশ্ন মাশরাফির, উত্তর তামিমের

123

01-smallনেলসন শহরের বুকে ছোট্ট পরিপাটি হোটেল ট্রেইলওয়েজ। এ বছরের বাকি দিনগুলোতে বাংলাদেশ দলের ঠিকানা এখানেই। আজ সকালে নেলসনে এসে বিকেলের মধ্যেই হোটেলটা আপন করে নিলেন ক্রিকেটাররা। পড়ন্ত বিকেলে ট্রেইলওয়েজের সামনে আড্ডা জমে উঠল। কেন্দ্রবিন্দু মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তামিম ইকবাল। কখনো মাহমুদউল্লাহ, কখনো মোস্তাফিজ, কখনো সাকিব…কখনো বা কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও সপরিবারে ছুঁয়ে গেলেন সে আড্ডাকে। এর মধ্যেই কিছু সময়ের জন্য পরিবেশটা হয়ে উঠল ভাবগম্ভীর। দলের প্রতিনিধি হয়ে তামিম তখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি। প্রশ্নোত্তর পর্বে স্যাক্সটন ওভালে হতে যাওয়া পরশুর দ্বিতীয় ওয়ানডে নিয়ে যেমন কথা হলো, ফিরে এসেছে ক্রাইস্টচার্চে বাজেভাবে হারা প্রথম ওয়ানডের প্রসঙ্গও। তামিম একটা ব্যাপার নিশ্চিত করতে চাইলেন। হার দিয়ে সিরিজ শুরু হলেও ওই ম্যাচের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না সিরিজের বাকি অংশে, ‘ভুল থেকে দ্রুত শিখে নিতে পারলে ভালো কিছু অবশ্যই হবে। ব্যক্তিগতভাবে সবাই নিজেদের ভুলগুলো খোঁজার চেষ্টা করছে। দল হিসেবেও আমরা পরের ম্যাচ নিয়ে পরিকল্পনা করব। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার শুরুতে তামিম শর্ত দিয়েছিলেন, গত বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে স্যাক্সটন ওভালে খেলা তাঁর ৯৫ রানের ইনিংসটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। ওই ইনিংসের আগে তাঁর দুঃসময় যাচ্ছিল, সেই ইনিংস এবার কতটা প্রেরণা দেবে এসব কোনো কিছু নিয়েই কথা বলা যাবে না। একটা দাবি জানিয়ে রেখেছিলেন তামিমের পাশেই বসে থাকা মাশরাফিও, ‘সব শেষে আমি একটা প্রশ্ন করব।’ তামিমের শর্ত মেনে ৯৫ রানের সে ইনিংস নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেননি। তবে অধিনায়কের মুখ বন্ধ রাখা কি এত সহজ! এতক্ষণ মনোযোগী শ্রোতা হয়ে তামিমের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথোপকথন শুনছিলেন মাশরাফি। নিজের সুযোগ আসার পর মাশরাফি ঠিক ওই প্রশ্নটাই করলেন, যেটা করতে নিষেধ করেছিলেন তামিম, ‘তখন তোমার কঠিন সময় যাচ্ছিল। তবু বিশ্বকাপে এ মাঠেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৫ রান করেছিলে। এখন তো তুমি ভালো ব্যাটিং করছ। দল তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। হোয়াট ডু ইউ থিংক অ্যাবাউট ইট?’
প্রশ্ন শুনে হেসে উঠে তামিমের পাল্টা প্রশ্ন, ‘এটা কি চাপ দিলেন…?’ এরপর বেশ গুছিয়ে দিলেন অধিনায়কের প্রশ্নের জবাব, ‘কোনো মাঠে কারও ভালো খেলার ইতিহাস থাকলে সেটা অবশ্যই ভালো ব্যাপার। তার মানে এটা নয় যে আবারও মাঠে নেমে আরেকবার ৯৫ রান হয়ে যাবে। আমি শূন্য রানেও আউট হতে পারি। আগে যা-ই করি, আমাকে তো আবার শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে।’
সেটা অবশ্য সবাইকেই করতে হয়। তবে অধিনায়কের কাছ থেকে যখন একজন খেলোয়াড় জানতে পারেন, দল তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছে, তাঁর জন্য শূন্য থেকে শুরু করাটা কঠিন কিছু নয়। দুষ্টুমির ছলে মাশরাফি হয়তো তামিমের ভেতরের আগুনটাই জ¦ালিয়ে দিতে চেয়েছেন।
স্কটিশদের ৩১৮ তাড়া করে সেদিন ৬ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পাঁচ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আফসোস তামিমের ছিলই। আক্ষেপটা আরও বড় হওয়ার কথা। সেঞ্চুরিটা হয়ে গেলে তামিমের নামের পাশে লেখা থাকত বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরিয়ানের নাম।
নেলসনে এবার দূর হয়ে যাক সে আফসোস। তামিমের দিকেই যে তাকিয়ে বাংলাদেশ দল!