প্রশ্নফাঁস রোধে গোয়েন্দা নজরদারি

22

যেকোনো ধরণের চাকরি কিংবা পাবলিক পরীক্ষা শুরুর আগে অনলাইন বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর হয়ে ওঠে কিছু কুচক্রী মহল। তাদের মূল লক্ষ্য থাকে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পরীক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। অস্বীকার করার উপায় নেই তাদের এই চক্রান্ত সফলে সহযোগী হয় নীতিভ্রষ্ট কিছু শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক। তবে প্রশ্নফাঁসের ব্যাধি সমাজে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা রোধ করা জরুরী।

এটা সত্য, বাংলাদেশে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ইতিহাস বেশ পুরোনো। ইতিহাসটা যে গর্ব করার মতো কোনো বিষয় নয় এটাকাউকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে না। এ প্রক্রিয়া এতটাই শৈল্পিক যে তা মানছে না শিক্ষার্থীর বয়স, শ্রেণি,পরীক্ষার ধরণ, ঋতুর বৈচিত্র্য ইত্যাদি! আর এই ইতিহাস পরিবর্তনে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যাতে কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস কিংবা ভুয়া প্রশ্নছড়াতে না পারে সেজন্য সাইবার দুনিয়ায় নজরদারি শুরু করেছে র‌্যাব। এছাড়া এই অপতৎপরতা বন্ধে আন্ডার কাভারঅপারেশন চালাবে তারা।  সেই সাথে চলছে সাইবারপেট্রোলিং। প্রশ্নফাঁস বন্ধে র‌্যাবের নেয়া এমনই পদক্ষেপের কথা জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। র‌্যাবপ্রধান বলেন, র‌্যাব নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি অন্য গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে তৎপররয়েছে। প্রত্যেকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিংয়ে র‌্যাবের সক্ষমতা রয়েছে। গত বছর প্রশ্নফাঁসবিরোধীঅভিযানে সারাদেশে ১২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবারো এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাই শতপ্রলোভনের মধ্যেও অভিভাবক, ছাত্র ও শিক্ষকদের সযত্নে এ ধরণের অপকর্ম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। কেউ যদি ভুয়াপ্রশ্নপত্র ফাঁস করে সে ক্ষেত্রে তাকেও ধরা হবে। এটাও জঘন্য অপরাধ। এ ধরণের প্রতারণাকারী শিক্ষক-ছাত্র কিংবা দাগীঅপরাধী যেই হোক না কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। দু-একদিনের মধ্যেইআপনারা রেজাল্ট দেখবেন।’ এছাড়াও র‌্যাব সদস্যরা প্রতিটি পরীক্ষা হল পরিদর্শন করবেন। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ওশিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে সেগুলো নিয়ে কাজ করবেন বলে জানান বেনজীরআহমেদ।

যেকোনো মূল্যে এবার প্রশ্নফাঁস বন্ধে বদ্ধ পরিকর বর্তমান সরকার।