প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

58

gourbangla logoদেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের পর সাধারণত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবারের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে জনমনে আগে থেকেই অনেক আগ্রহ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিএনপি চেয়ারপারসনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঢাকা সফর, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে তিস্তাচুক্তি প্রসঙ্গ, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন, জাতীয় সংসদের মূল নকশা দেশে আনাসহ প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ও নতুন বিমান কেনা প্রসঙ্গও সংবাদ সম্মেলনে ওঠে। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখানে তাঁর বা সরকারের বলার কিছু নেই। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নেবেন। কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে দলীয় প্রধান হিসেবে তিনি বলেছিলেন, আগামীতে কোনো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে দিতে চান না। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে নির্বাচন কমিশন। বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন কমিশন গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি কমিশন গঠন করবেন। স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় সমর্থন করবেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় বাংলাদেশের দিকে আসছে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে আসার আভাস দিয়েছেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশের করণীয় কী, এ প্রসঙ্গেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সরকার ১৩৫টি পদক্ষেপ নিয়েছে। নিজস্ব অর্থে জলবায়ু তহবিল গঠনের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য আলাদা বিমান কেনা প্রসঙ্গে ভিভিআইপি ফ্লাইটের জন্য নতুন বিমান কেনার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর জন্য আলাদা বিমান কেনার মতো বিলাসিতা করার সময় এখনো আসেনি। আসন্ন ভারত সফর ও তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি কোনো শর্ত দিয়ে ভারত সফরে যাচ্ছেন না। তিস্তাচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে পানি সম্মেলন ও এর আগে মরক্কোর রাজধানী মারাকেশে জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই দুই সফর উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সফর প্রসঙ্গে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলনের ভেতর দিয়ে স্পষ্ট একটি বার্তা সবার কাছে পৌঁছে গেছে বলে আমরা মনে করি। দেশের উন্নয়নে প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন, তা যথেষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে।