প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি : ৭ কর্মকর্তা গ্রেফতার, আত্মসমর্পণের পর ২ জন কারাগারে

111

captureপ্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটির ঘটনায় মামলা হওয়ার দুই দিনের মাথায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাত কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য জানান। গ্রেফতাররা হলেন- বিমানের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (প্রোডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) এস এ সিদ্দিক, ভারপ্রাপ্ত মুখ্য প্রকৌশলী (এনসিসি) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশলী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, সামিউল হক, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসাইন। বিমানের এই কর্মকর্তাদের গত বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে মাসুদুর রহমান জানান। গ্রেফতার বিমানের ৭ কর্মকর্তার ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট স্নিগ্ধা রানী সরকারের আদালতে তাদের তোলা হয়। এ সময় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এর আগে গত বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা ও রমনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার অপর ২ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। মেরামত শেষে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে উড়োজাহাজটি। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন অয়েলের ট্যাংকের একটি নাট ঢিলে থাকায় ওই বিপত্তি ঘটে। এর পেছনে নাশকতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিমান মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তিনটি তদন্ত কমিটি করে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার তিন দিনের মাথায় এস এম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, লুৎফুর রহমান, জাকির হোসাইন ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেবেশ চৌধুরী, এস এ সিদ্দিক ও বিল্লাল হোসেন সাময়িক বরখাস্ত হন। এরপর মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় বরখাস্ত নয়জনকে আসামি করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (গ) ধারায় মামলা করেন বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) এমএম আসাদুজ্জামান। মামলার এজাহারে বলা হয়, বিভাগীয় তদন্তে ওই নয়জনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি নিয়া অবহেলামূলক আচরণ করতঃ অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করার” প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির মাহমুদ চৌধুরী আগামি ১২ জানুয়ারি মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ঠিক করে দিয়েছেন।
আত্মসমর্পণের পর দুই বিমানকর্মী কারাগারে: প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটির ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মী আত্মসমর্পণের পর তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বিমানের জুনিয়র টেকনিশিয়ান মো. সিদ্দিকুর রহমান ও প্রকৌশলী কর্মকর্তা এস এম রোকনুজ্জামান গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী শুনানি শেষে জামিন নাকচ করে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের সহকারী কমিশনার মিরাশ উদ্দিন জানান। দুই আসামির আইনজীবী মো. শাহাবুদ্দিন জামিন শুনানিতে বলেন, কোনো নাশকতার জন্য এটা করা হয়নি, বিমানের ইঞ্জিনের ত্রুটিতে এদের কোনো দায় নেই। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আমার মক্কেলরা আত্মসমর্পণ করেছে। আমার মক্কেলদের জামিন চাই। গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। ইঞ্জিন অয়েলের ট্যাংকের একটি নাট ঢিলে থাকায় ওই বিপত্তি ঘটে। এর পেছনে নাশকতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিমান মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তিনটি তদন্ত কমিটি করে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার তিন দিনের মাথায় ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও তিন প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত হন। এরপর মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় বরখাস্ত নয়জনকে আসামি করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(গ) ধারায় মামলা করেন বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) এস এম আসাদুজ্জামান। মামলার এজাহারে বলা হয়, বিভাগীয় তদন্তে ওই নয়জনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি নিয়া অবহেলামূলক আচরণ করতঃ অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।