প্রধানমন্ত্রীর অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

56

gourbangla logo

চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমন নতুন কিছু নয়। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা থেকেই এই বিদেশ গমন। দেশের সরকারি হাসপাতাল গুলোতে যাঁদের ভর্তি হতে কিংবা সিট পেতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত এমন শ্রেণির মানুষও সামান্য অসুস্থ হলেই বিদেশে চলে যান। এ অবস্থায় অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী। গাজীপুরের কাশিমপুরের তেঁতুইবাড়িতে তাঁর মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালে নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন তিনি। সেখানে ঘোষণা দিলেন, এখন থেকে দেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা দেশের চিকিৎসকদের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর দায়িত্ব অনেক বাড়িয়ে দিল। আমাদের দেশে জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকরা থাকতে চান না। পালা করে অনেকে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের যে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নতুন মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন চিকিৎসাসেবার বিকেন্দ্রীকরণ। দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর ওপর চাপ কমবে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করতে হয়, অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই ঢাকার বাইরে এমনকি বিভাগীয় শহরেও থাকতে চান না। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। দেশে আন্তর্জাতিক মানের নার্সিং ইনস্টিটিউট আছে। পুরনো মেডিক্যাল কলেজগুলোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা মেডিক্যাল কলেজ। কিন্তু চিকিৎসকদের মধ্যে জনসেবার সেই আগ্রহ কি আছে? উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতিই এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর হতে পারে। সরকার নানা প্রণোদনা দিয়েও গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসকদের ধরে রাখতে পারছে না। আগামী দিনের চিকিৎসকদের মধ্যে সেবার মানসিকতা গড়ে তোলা তাই জরুরি। চিকিৎসকরা পেশাকে ব্রত হিসেবে নিতে না পারলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হবে না। দেশের সরকারি চিকিৎসাসেবার হাল কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, তা যাঁদের সরকারি হাসপাতালে যেতে হয়, তাঁরাই বোঝেন। রাজধানীর দু-একটি হাসপাতালে যেটুকু চিকিৎসাসেবা অবশিষ্ট আছে, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে তাও নেই। অনিয়মের আখড়া হয়ে গেছে সরকারি হাসপাতাল। দুর্গন্ধে অনেক হাসপাতালে ঢোকা যায় না। চিকিৎসকদের আন্তরিকতা নিয়েও রয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন। বলা হয়, চিকিৎসার চেয়ে রাজনীতি নিয়েই তাঁরা বেশি ব্যস্ত থাকেন। চিকিৎসা সরঞ্জাম হয় নেই, না হয় অচল। ওষুধ কালোবাজারে বিক্রি হয়ে যায়। দালালদের দৌরাত্ম্যে রোগীরা হিমশিম খায়। আর আছে ভেজাল ওষুধ। কাজেই দায়িত্ব সবার। হাসপাতাল ও রোগী ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যেমন আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, তেমনি বাজার থেকে ভেজাল ওষুধ দূর করতে হবে। চিকিৎসকদের মধ্যে সেবার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। হাসপাতালগুলোকে সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা আশা করব, সবার সম্মিলিত চেষ্টায় চিকিৎসাসেবায় আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সবাই তা অনুসরণ করবেন।