প্রতিষ্ঠানের নান্দনিক ভবনে উঁকি দিচ্ছে উন্নয়ন, দশ বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে বদলে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ

36

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অন্যতম অংশ মানসম্মত শিক্ষা। আর শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজন আধুনিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা-সংবলিত শিক্ষা অবকাঠামো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) সারাদেশে নির্মাণ করছে বিশ্বমানের আধুনিক সুবিধা-সংবলিত শিক্ষা অবকাঠামো। শিক্ষা ক্ষেত্রের এ উন্নয়নে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ আমের রাজধানী দেশের উত্তর-পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
গত দশ বছরে বদলে গেছে এ জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চেহারা। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে নবনির্মিত আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন নতুন মডেলের পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক সব বহুতল ভবন। সেইসাথে চলমান রয়েছে আরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও পুরাতন প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নের কাজ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিুবল আহসান জানান, “ভবনগুলোয় আধুনিক ক্লাসরুম, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা, দৃষ্টিনন্দন রুপটালি ব্যবহার, ব্ল্যাক ও সাদা বোর্ড ব্যবহার, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য র‌্যাম্প তৈরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় ও বজ্রনিরোধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে।”
নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরেই অনেকগুলো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হয়েছে মনোরম একাডেমিক ভবন। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গত প্রায় পাঁচ বছরেই ৬১ কলেজে চারতলা ভিতবিশিষ্ট চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। একই প্রকল্পের আওতায় ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারতলা ভিত বিশিষ্ট চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। এছাড়া আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ তলা ভিতবিশিষ্ট পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
অন্যদিকে নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারতলা ভিতবিশষ্ট চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৭ কটি টাকা।
অপর দিকে নির্বাচিত মাদ্রাসাসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারতলা ভিতবিশিষ্ট চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি টাকা। চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
সরকারি কলেজগুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ (২০০ সরকারি কলেজ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি টাকার অধিক।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে স্যানিটেশন ও বিদ্যুতায়নসহ পাঁচতলা ভিতবিশিষ্ট পাঁচতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি টাকার অধিক। এরকম আরো অনেক ভবন নির্মাণ ও মেরামতসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী পদে লোক দেয়ায় কাজের গতি বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে জেলার ৫ উপজেলায় একজন করে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর মঞ্জুরিকৃত পদ থাকলেও শিবগঞ্জ ও নাচোল ছাড়া সদর, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলায় পদ তিনটি শূন্য রয়েছে। দাপ্তরিক কাজের জন্য অন্য পদগুলোয় আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তারপরও থেমে নেই কার্যক্রম। নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল আহসানের নেতৃত্বে সীমিত জনবল দিয়েই প্রতিটি কাজের সর্বোচ্চ তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল দেয়া হলে কাজের গতি আরো বেড়ে যাবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।