প্রতিবন্ধিতা বাধা নয় প্রমাণ করছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী খাদিজাতুল

37

আল-মামুন বিশ্বাস, গোমস্তাপুর

দশ মাস বয়সে টাইফয়েড হয়। চিকিৎসা করানো হয় স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে। সুস্থ না হওয়ায় রাজশাহীতে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয় তাকে। সেখানেও সুস্থ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা করানো হয় ঢাকার একটি হাসপাতালে। ধীরে ধীরে ভালো হলেও পরবর্তীতে সেরিব্রালপালসি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন খাদিজাতুল কোবরা।
পরবর্তীতে এই রোগ থেকে ভালো হয়ে উঠতে পারেননি। রোগকে সঙ্গী করেই বেড়ে উঠছেন খাদিজাতুল। বাড়িতে নিজের ইচ্ছায় একটু চলাফেরা করলেও অন্যের সহায়তা নিয়েই চলতে হয় তাকে। তবে সেরিব্রালপালসি রোগে আক্রান্ত হলেও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। মনের জোর আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে এবার বসেছেন এইচএসসি পরীক্ষা দিতে। স্বপ্ন দেখছেন শিক্ষাজীবন শেষ করে শিক্ষক হওয়ার।
খাদিজাতুল কোবরার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের চন্দনা গ্রামে। বাবা হুমায়ুন কবীর চাকরি করেন পুলিশ বাহিনীতে। কর্মরত আছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে। ছোটবোন হাফিজা আক্তার ঢাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী খাদিজাতুল। প্রতিবন্ধিতা তাকে দমাতে পারেনি। প্রাথমিকে শিক্ষাজীবন নানাবাড়িতে থেকে। সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৩০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ভর্তি হন গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর বহিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.২০ ও এসএসসিতে জিপিএ ৩.৪৪ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
এইচএসসি ভর্তি হন রহনপুর মহিলা কলেজে। এবার সেখান থেকেই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তার আসন পড়েছে রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বাবা হুমায়ুন কবীরকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা দিতে যান খাদিজাতুল। বাবা পরীক্ষা কেন্দ্রের আসনে বসিয়ে দিয়ে আসেন। পরীক্ষা শেষে আবার নিয়ে যান মেয়েকে।
বাবা হুমায়ুন কবীর জানান, তার মেয়ের পড়ালেখায় প্রবল আগ্রহ আর মনের জোর রয়েছে। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও বাম হাত দিয়ে লিখতে পারে। কথাও অস্পষ্ট। অনেক চিকিৎসা করেও তার প্রতিবন্ধিতা দূর করা সম্ভব হয়নি। মেয়ের পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে কখনো তাকে অন্ধকারের মধ্যে রাখতে চাননি। অবসর সময়ে মোবাইলে সিরিয়াল শো দেখতে পছন্দ করে খাদিজাতুল, জানান বাবা।
হুমায়ুন কবীর আরো জানান, মেয়েকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। কখনো তাকে বোঝা মনে করেননি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
অস্পষ্টভাবে খাদিজাতুল কোবরা বলেন, পরীক্ষা ভালো হচ্ছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও ভালো হবে বলে আশা তার। লেখাপড়া শেষ করে শিক্ষক হতে চান বলে জানান তিনি।
প্রতিবেশী আত্মীয় বাদল জানান, ভাতিজি খাদিজাতুল বাড়ির বাইরে বের হয় না। নিজের প্রাত্যহিক কাজ নিজে করার চেষ্টা করে।
রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মনিরুল ইসলাম বলেন, বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক শারীরিক প্রতিবন্ধী খাদিজাতুল কোবরা মানবিক বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেয়া হচ্ছে তাকে।