প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

77

Chapainawabganj

খরতাপে পুড়ছে আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। অনেকেই বলছেন আম পাকা গরম পড়েছে, জৈষ্ঠ্যের শুরু থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হালকা থেকে তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তাই জরুরী কাজ ছাড়া অনেকেই বাড়ির বাইরে রের হচ্ছে না। যারা বের হয়েছেন তাদের অনেকেই রোদ থেকে বাঁচার জন্য ছাতা ব্যবহার করেছেন। এদিকে ভ্যাপসা গরমে হাপিয়ে উঠা মানুষ একটু স্বস্তির জন্য গাছের ছায়ায় বসে থেকেছেন, কেউবা খেয়েছেন ডাবের পানি, আবার অনেকেই রসালো তরমুজ সহ বিভিন্ন ফল খেয়ে গরমের তীব্রতা থেকে একটু বাঁচার চেষ্টা করেছেন।
শহরের বেলেপুকুর এলাকার আব্দুল হামিদ জানান, ভ্যাপসা গরমে সূর্যতাপে যেন শরীরের চামড়া পুড়ে যাওয়ার অবস্থা। বাইরে বেরুতে যেন ভয় পাচ্ছি।
এদিকে শহরের শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজ মোড় এলাকার শক্রবার ডাব বিক্রি করছিলেন সাইফুল নামে এক বিক্রেতা । তিনি জানান, গরম পড়ায় ডাবের বেচাবিক্রি অনেক ভালো।
এদিকে অসহনীয় গরমে গাছে থাকা আম ও লিচু শুকিয়ে ঝড়ে যাচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের বিস্তৃর্ণ সবুজ ফসলের মাঠ বিবর্ণ আকার ধারণ করেছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ( আরএমও) শফিকুল ইসলাম জানান, এই  গরমে ভালো থাকার জন্য বিশেষ করে কিডনি ভালো রাখার ক্ষেত্রে পানির সাথে একটু কাঁচালবন মিসিয়ে পান করতে হবে । তবে এখন পর্যন্ত গরমের কারনে হাসপাতালে কোন রোগী ভর্তি হয়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাজশাহী অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সেই তাপমাত্রা বেড়ে হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সহকারী পর্যবেক্ষক আনোয়ারা বেগম জানান, গত ১৯ মে রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০ মে রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে, দুই সপ্তাহ আগে ভারি বৃষ্টির পর থেকে টানা তাপদাহ চলছে। ফলে তপ্ত মাটি ভিজে যাওয়ার মতো এক পশলা বৃষ্টির দিকে মানুষ তাকিয়ে আছে।