প্রচণ্ড গরমে নাকাল জনজীবন

10

প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। নাকাল হয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলাবাসী। পুরো আষাঢ় মাসে বৃষ্টি না হওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই তাপদাহে সরকারি হাসপাতাল বা গ্রাম্য চিকিৎসালয়ে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিচ্ছে। শ্রমজীবী ও কর্মজীবী লোকেরা পড়েছে বিপাকে। সূর্যের তাপের কারণে খেটে খাওয়া মানুষ কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না। আমন চাষাবাদের জন্য মাঠ একেবারে শুকনো হয়ে পড়ে আছে। আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণ শুরু হলেও বৃষ্টির দেখা না পেয়ে রোপা আমন আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছে কৃষকরা।
তীব্র গরমে অনেকে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। কেউ কেউ একটু শীতল বাতাসের পরশ পেতে ছুটছে নদীর ধারে। কেউবা শীতল স্থান বা গাছের নিচে বসে প্রশান্তির ছোঁয়া নিচ্ছে।
এদিকে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রহনপুর শহর এলাকা ঘুরে আখের রস, ডাব, বরফ, শরবত বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রচণ্ড গরমে ফ্রিজের কোমলপানি বা ঠাণ্ডা পানি তৃষ্ণা মিটাতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। অনেক ছিন্নমূল লোককে গাছের নিচে, রাস্তা বা বাড়ির পাশে শীতল স্থানে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাতাস না থাকায় বাড়িতে সারাদিন বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরছে। অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেগুলো মেরামত করতে মেকানিক দোকানে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শুধু মানুষ বা পশুপাখি নয়, প্রখর তাপে গাছপালাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
অটোভ্যানচালক ইসমাইল বলেন, সকাল ৭টার পর সূর্যের প্রখর তাপ পড়তে থাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে। তাপের কারণে তিনিসহ অনেক রিকশা ও ভ্যানওয়ালা গাড়ি বের করছেন না। বের করলে গরমের অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে পড়তে হয়। কিছুক্ষণ পরপর পিপাসা লাগে। মাথা ঘুরে পড়ে যেতে হয়।
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী আফিয়া আশরাফি বলেন, ঈদের ছুটি চলছে, কয়েক দিন পর স্কুল খুলবে। কিন্তু এ গরম অব্যাহত থাকলে ক্লাস করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
আখের রস বিক্রেতা মইদুল জানান, গরমে আখের রস ভালোই বিক্রি হচ্ছে। তাপের কারণে তাকেও হিমসিম খেতে হচ্ছে। রাস্তায় হেঁটে যাওয়া ব্যক্তিরা বেশি রস খাচ্ছে বলে জানান তিনি।
রহনপুর স্লুইসগেটের পাশের পৌর শিশুপার্কের গাছের ছায়ায় বসে থাকা আব্দুর রশিদ জানান, স্টেশনবাজার যাচ্ছিলেন তিনি। তাপের কারণে ঘেমে শরীর ভিজে গেছে। তাই গাছের নিছে বসেছেন বিশ্রামের জন্য।
কৃষক এরশাদ আলী বলেন, আমন চাষাবাদের মৌসুমে বৃষ্টি নেই, মাঠ খাঁ খাঁ করছে। এ সময় জমির আইলগুলো ঠিক করে রাখছি। কিন্তু সূর্যের তাপে জমিতে কাজ করতে পারছি না। কিছুক্ষণ পর মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা কাজ করে চলে আসতে হচ্ছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক সেলিম রেজা বলেন, তাপমাত্রা বেশির কারণে প্রতিদিন শিশুসহ সব বয়সী লোকজন ভর্তি হচ্ছে। ডায়রিয়াসহ পেটের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। তিনি খাবারের প্রতি সকলকে সচেতন হবার আহ্বান জানান।