প্রকৌশলীদের ধর্মঘটে বিদ্যুৎহীন শ্রীলঙ্কা

9

নতুন সরকারি বিধিবিধানের বিরোধিতা করে শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎখাত সংশ্লিষ্ট একটি ইউনিয়নের সদস্যরা ধর্মঘট শুরু করায় বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে দেশটির বিস্তৃত এলাকা। ধর্মঘটে নতুন করে সংকটে পড়েছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত দক্ষিণ এশিয়ার এ দ্বীপরাষ্ট্রটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্র পরিচালিত বিদ্যুৎ কোম্পানি সিলন ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের (সিইবি) ১ হাজার ১০০ জন প্রকৌশলীর মধ্যে প্রায় ৯০০ জন গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন। এর ফলে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এমন ৮টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের বিদ্যুৎ খাত নিয়ন্ত্রণকারী আইন সংশোধন করার সরকারি পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে সিইবি ইঞ্জিনিয়ার্স ইউনিয়ন। আইনটি সংশোধন হলে প্রকৌশলীদের জন্য তাদের কাজের বিষয়ে রিপোর্ট বা প্রতিবেদন দেয়া বাধ্যতামূলক হবে। এদিকে ঋণ সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে চীন। আগামী ছয় মাস চলার জন্য শ্রীলঙ্কার ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের এমন বক্তব্যের পর অর্থ সহায়তার আশ্বাস দিল বেইজিং।

দুর্দশাগ্রস্ত শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, আগামী ছয় মাস চলতে শ্রীলঙ্কার অন্তত ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন। খাদ্য, জ¦ালানি, ওষুধ সংকটে থাকা দেশটি তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক সহায়তার দিকে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে শ্রীলঙ্কাকে সাহায্য করতে আগ্রহী চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বুধবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে চীনের বহুদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

আমরা দেশটির সংকট গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে চীন সামর্থ্যরে মধ্যে সাহায্য করছে। ঝাও লিজিয়ান আরও বলেন, আমরা আশা করি শ্রীলঙ্কা চীনের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখবে। শ্রীলঙ্কার বর্তমান নানা সংকট পর্যালোচনা করে দেশটির ঋণের বোঝা কমাতে এবং শ্রীলঙ্কার জন্য টেকসই উন্নয়ন অর্জনে সহায়তা করতে চীন পাশে থাকবে। এজন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং।