পোশাক ব্র্যান্ডিংয়ে ঢাকায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ উইক’ শুরু

9

বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে তুলে ধরতে শনিবার থেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ উইক, ২০২২’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রবিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
শনিবার রাজধানীর শেরাটন হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান মেড ইন বাংলাদেশ উইকের কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এবারের বাংলাদেশ উইকের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করা। ক্রেতাদের সামনে দেশের বদলে যাওয়া পোশাক খাতের সামর্থ্য তুলে ধরা। আমরা পোশাকশিল্পে যে উদ্ভাবন করেছি, এই শিল্পের যে ইতিবাচক দিক রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলকে সেটা জানাতে চাই।’
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, আজ সকালে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে একটি গলফ টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে মেগা ইভেন্ট ‘মেড ইন বাংলাদেশ উইক ২০২২’ শুরু হয়েছে। দেশ-বিদেশের মানুষ, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও সহযোগীরা এই টুর্নামেন্টে যোগ দেন। তবে আজ বাংলাদেশ উইক শুরু হলেও আগামীকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
এই মেগা ইভেন্ট উপলক্ষে পোশাক খাতের বিদেশী ৫৫০ ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিনিধি ঢাকায় আসছেন।
প্রথমবারের মতো ‘মেড ইন বাংলাদেশ উইক’ নামে মেগা আয়োজনে থাকছে পাঁচটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট। এগুলো হচ্ছেÑ ঢাকা অ্যাপারেল সামিট, ঢাকা অ্যাপারেল এক্সপো, বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো, সাসটেইনেবল ডিজাইন অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ও সাসটেইনেবল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস। এছাড়া মেড ইন বাংলাদেশ ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ডস নামে আলাদা ইভেন্টসহ আরো বেশ কিছু আয়োজন রয়েছে এতে।
এই আয়োজনে পোশাক খাতের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষাসহ অনুসরণযোগ্য চর্চার গল্প নিয়ে ‘ওয়ান জিরো ওয়ান গুড প্রাকটিস ইন আরএমজি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ’ এবং বাংলাদেশকে তুলে ধরতে ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ বুক’ নামে দুটি গ্রন্থ প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং ঐতিহ্য এবং বদলে যাওয়া পোশাক খাত সম্পর্কে জানবে বিশ্ব। রাজধানীর বসুন্ধরায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে (বিআইসিসি) থাকছে সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ফরুক হাসান বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ স্বল্পতার যে চ্যালেঞ্জ বর্তমানে রয়েছে তা উত্তরণে সরকারের সাথে আমরা আলোচনা করছি। আশা করছি এর সমাধান হয়ে যাবে। তবে বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শিল্প-কারখানার মালিকরা যদি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পোশাকের ক্রয়াদেশ ধরে রাখার জন্য উদ্যোক্তারা অনেক সময় দাম কমান। যখনই ক্রয়াদেশ কমতে শুরু করে, তখন উদ্যোক্তারা পোশাকের দাম কমান। তিনি বলেন, নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখার জন্য এমনটি আর করা যাবে না। মূল্য কমালে চলবে না।
তিনি জানান, অনুষ্ঠানটির আয়োজনে স্পন্সর হিসেবে বেশ কিছু বিদেশী কোম্পানি যুক্ত হয়েছে। এছাড়া বিদেশী ক্রেতারা আসবেন। তারা তো নিশ্চয়ই কিছু ডলার, পাউন্ড সাথে করে নিয়ে আসবেন। তাই বাংলাদেশের রিজার্ভে বেশ কিছু ডলার যুক্ত হবে বলে আশা করি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ রপ্তানি বাজার হিসেবে বড় দেশ এবং জোটের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে অংশ নেবেন। এছাড়া যেসব দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়, সেসব দেশের ব্র্যান্ড এবং ক্রেতা প্রতিনিধিরা থাকবেন। বর্তমানে ১৬০ দেশে যায় বাংলাদেশের পোশাক। বিশ্বের বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ।