পুনর্গঠন নির্বাচন কমিশন সবার অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হোক রাজনীতি

84

gourbangla logoনির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এবং প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠেয় জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বড় দুই রাজনৈতিক দলই নির্বাচনমুখী। আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক, তা তিনি চান না। দেশের নির্বাচন পরিচালনার ভার নির্বাচন কমিশনের। বর্তমান কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। নির্বাচন কমিশন গঠনে নিজেদের প্রস্তাব নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য বিএনপি এরই মধ্যে সময় চেয়েছে। নতুন কমিশন গঠনে ১৩ দফা প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সরকারি দল আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধান মেনেই নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। সরকারের আইনমন্ত্রীও জানিয়েছেন আগের মতো সার্চ কমিটি করেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন নিয়োগ দেবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের এই প্রস্তাবকে ভিত্তি হিসেবে ধরে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি অনেক দিন থেকে একটি আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি মানুষকে খুব একটা আকৃষ্ট করতে পারছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা থেকে সৃষ্ট সহিংসতায় অতীতে দেশের জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এ কারণে কোনো কোনো মহল থেকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিএনপির প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যখন নেই তখন দলীয় সরকারের অধীনে কিভাবে নির্বাচন হবেÑএ প্রশ্নে বিতর্ক আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখেই পুনর্গঠন করতে হবে। প্রথমেই যদি নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়টি বিতর্কিত হয়ে পড়ে তাহলে একটি বিতর্কমুক্ত নির্বাচন করার ক্ষেত্রে হোঁচট খেতে হবে। একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনই পারে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে। এটাও ঠিক, বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনব্যবস্থা সম্পর্কে যেসব প্রস্তাব রেখেছেন তার সঙ্গে সবাই একমত নয়। আবার এই নাকচ পরিস্থিতির মধ্যেও এক ধরনের স্বস্তি খুঁজে পেতে পারে দলটি। মাঠের রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়া বিএনপি নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনায় থাকতে চায়, এমনটিও ধরে নেওয়া যেতে পারে। এটি রাজনৈতিক কৌশল হলেও তা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কমিশন কিভাবে শক্তিশালী করা যায়, এ নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। ২০১৯ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে হানাহানি নয়, রাজনীতির মাঠে স্বস্তির সুবাতাস বয়ে যাক।