পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ

2

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ইহুদিবাদী ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিষদের সদস্য ১৪৯টি দেশ এক যৌথ প্রস্তাবে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা, উৎপাদন, মজুদ ও সম্প্রসারণ থেকে বিরত থাকার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে ইসরাইলের হাতে পরমাণু অস্ত্র না থাকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রস্তাবে পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তাররোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তিতে যুক্ত হতে এবং ইসরাইলের সমস্ত পরমাণু প্রকল্পের ওপর আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের নীতি অবস্থান ও ঘোষণায় নিজেদেরকে পরমাণু অস্ত্রের বিস্তাররোধের সমর্থক এবং এনপিটিকে সমর্থন দেয়ার কথা বলে কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে কানাডাসহ এই দেশগুলো পরমাণু অস্ত্র বিষয়ে ইসরাইলবিরোধী প্রস্তাবে ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল। পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধের জন্য ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষ এবং বাহরাইন, জর্দান, মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১৯টি আরব দেশের সমর্থনে মিশরের উদ্যোগে প্রতিবছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হয়।

ইসরাইল বিরোধী এ প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইসরাইল এবং বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে যে কয়েকটি সরকার এনপিটিতে সই করেনি তার মধ্যে ইসরাইল অন্যতম। এর আগে কুয়েতসহ আরো কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে এনপিটিতে সই করার জন্য ইসরাইলকে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ভিয়েনায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় কুয়েতের রাষ্ট্রদূত তালাল আল ফিসাম এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইএইএতে ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্রের হুমকির বিষয়টি পর্যালোচনা করা খুবই জরুরি। উল্লেখ্য ১৯৬৭ সালের ১ জুলাই এনপিটি চুক্তির বিষয়বস্তু চূড়ান্ত হয় এবং সেদিন আমেরিকা ও ব্রিটেনসহ ৫৯টি দেশ এতে সই করেছিল। বর্তমানে ১৮৬টি দেশ এনপিটিতে সই করেছে এবং যে কয়েকটি দেশ এতে সই করেনি তার মধ্যে ইসরাইল অন্যতম। আইএইএর দায়িত্ব এনপিটি বাস্তবায়ন দেখভাল করা যাতে বিশ্বের দেশগুলো শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারে এবং বিশ্বের দেশগুলোকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। কিন্তু ইসরাইলের বেআইনি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থাই কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গোপনে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ এবং এনপিটি চুক্তিতে সই করতে ইসরাইলকে আহ্বান জানালেও এতটুকুই যথেষ্ট নয়। বরং এ প্রস্তাব মেনে নিতে ইসরাইলকে বাধ্য করতে হবে। সমস্যা হচ্ছে, বহু দিন ধরে কিছু আরব দেশ গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। ফলে ইসরাইল আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের অধিকার পদদলিত করছে। তাই শুধু প্রস্তাব পাশ করাই যথেষ্ট নয় বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। পার্সটুডে