পাঁচ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছে ৫৫%

5

দেশে প্রতিনিয়তই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে। সংস্থাটির দাবি, গত পঁভচ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার বেড়েছে ১৬ শতাংশ। আর এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যু হার বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। ২০২৩ সালে মোট ৬ হাজার ৯১১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫২৪ জন। এ সময় আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৪০৭ জন।
শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ‘২০২৩ সালের সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৩ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ৫৩২টি, নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৪৮৭ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন। নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৯০৯ জন (৭৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ) ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী। ২০১৯ সালে ১ হাজার ১৮৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৯৪৫ জন। ২০২০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৮১ দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন। ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭৩টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন। যদিও ২০২২ থেকে ২০২৩ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ও মৃত্যু কমেছে। তবে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। ২০২২ সালে ৬ হাজার ৮২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৭১৩ জন।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার বিশ্লেষণ : অন্য যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে (৫৭২টি) ২২ দশমিক ৫৯ শতাংশ, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে (৯০৪টি) ৩৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের চাপা ও ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে (১ হাজার ২৫টি) ৪০ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে (৩১টি) ১ দশমিক ২২ শতাংশ। ৩৬ দশমিক ২১ শতাংশ (৯১৭টি) দুর্ঘটনার জন্য মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ছিল। দুর্ঘটনার জন্য বাসের চালক দায়ী ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ (২৬১টি), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি চালক দায়ী ৪০ দশমিক ৯১ শতাংশ (১ হাজার ৩৬টি), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস চালক দায়ী ২ দশমিক ৭২ শতাংশ (৬৯টি), থ্রি-হুইলার ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ (১০৮টি), বাইসাইকেল, প্যাডেল রিকশা, রিকশাভ্যান চালক দায়ী শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ (১৩টি), পথচারী দায়ী ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ (৯৭টি) এবং অন্যান্য কারণ দায়ী ১ দশমিক ২২ শতাংশ (৩১টি)।
২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ (৭৪৪টি) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ৪১ দশমিক ৫৮ শতাংশ (১ হাজার ৫৩টি) ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, ১৭ দশমিক ১৪ শতাংশ (৪৩৪টি) ঘটেছে গ্রামীণ সড়কে এবং ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ (৩০১টি) দুর্ঘটনা ঘটেছে শহরের সড়কে।
২০২৩ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬ হাজার ৯১১টি। নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫২৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৪০৭ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৯৭৪ জন (১৪ দশমিক ৯২ শতাংশ), শিশু ১ হাজার ১২৮ জন (১৭ দশমিক ২৯ শতাংশ)। ২ হাজার ৫৩২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৪৮৭ জন, যা মোট নিহতের ৩৮ দশমিক ১২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৫২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২২ দশমিক ২৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৯৪২ জন, অর্থাৎ ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এই সময়ে ১০৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৪৮ জন নিহত, ৭২ জন আহত এবং ৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ট্রলার ডুবে ৩৩টি গরুর মৃত্যু ঘটেছে। ২৮৭টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৩১৮ জন নিহত এবং ২৯৬ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থার নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।