পরিবার পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখছে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক

28

তারমিন খাতুন

স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতায় ও গ্রামীণ শিশু-কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী ও নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। এখানে সেবাদানকারীরা সহজেই সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করেন এবং স্বাস্থ্য নিয়ে যে কুসংস্কার রয়েছে, সেগুলো নিয়ে মানুষকে সঠিক তথ্য দিয়ে থাকেন। প্রায় ৬ হাজার মানুষের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডেই একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। বর্তমানে দেশে ১৩ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, কিশোর-কিশোরী ও প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি, স্বাস্থ্য শিক্ষা, পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়। গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসব থেকে বিরত থাকার স্বাস্থ্যবিধি, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা, বিধান ও ব্যবহারই হলো পরিবার পরিকল্পনা। উন্নয়নশীল বিশ্বে জন্ম নিয়ন্ত্রণ, নারীদের উপার্জন, সম্পদ, ওজন, তাদের শিশুদের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য এসব উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের কারণে নির্ভরশীল সন্তানের হার, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সম্পদের কম খরচের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও পরিবার পরিকল্পনায় বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছে। ফলে গ্রামে বসবাসরত মানুষ সহজে চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকছেন এবং মানুষে ভেতরে থাকা জন্ম নিয়ন্ত্রন নিয়ে ভুল ধারণা দূর হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জেও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছে। সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার কমিউনিটি ক্লিনিকেও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেয়া হয় এবং এখানে বেশিরভাগ নারীরাই এই সেবা নিয়ে থাকেন। এই সম্পর্কে আরো জানতে চাইলে আতাহার কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি স্বাস্থ্য পরিদর্শক আসমাউল হুসনা বলেন, প্রতি মাসে শতকরা ৮০ জনকে পরিবার পরিকল্পনার সেবা দেয়া হয়ে থাকে এবং বেশিরভাগ সেবাগ্রহীতাই নারী। নারীরা জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে খুব সহজেই তাদের সমস্যাগুলো বলতে পারে। এখানে নারী ও সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে সেবা নেয়ার আগ্রহ অনেক বেশি।
ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা ২৫ বছর বয়সী জেসমিন বেগম জানান, পরিবার ছোট রাখার জন্য এখানে এসে আপাদের সাথে কথা বলি। তারা আমার ও আমার স্বামীর সাথে কথা বলে একটি পদ্ধতির কথা বলেছে। আমি সেটি নেয়ার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখি। বাইরে কারোর সামনে বলতে লজ্জা লাগে বা গোপন বিষয়। কিন্তু এখানে আপাদের কাছে সমস্যা হয় না বলতে। স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে আমাদের নানা উপদেশ দিয়ে থাকেন।
হালিমা খাতুনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, একটু ঠা-াজ্বর বা ডায়রিয়া হলে ওসুধ স্যালাইন দিয়ে থাকে। এছাড়া বাচ্চাদের টিকা, মেয়েদের টিটি টিকা দেয়। কিছুদিন আগে করোনার টিকা দিয়েছিল। এখান থেকে আমরা যে কোনো প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাসহ পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সেবা পেয়ে থাকি। এখানে শনিবার ও মঙ্গলবার ওষুধ দেয়। খরচপাতিও হয় না। তবে শরীর বেশি খারাপ হলে সদর হাসপাতালে যেতে বলে।
মানুষ দিন দিন সচেতন হচ্ছে এবং এই পরিবার পরিকল্পনার সেবাগুলো স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে গ্রহণ করছে। বর্তমানে জেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের হার বেড়েছে। এই বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. আব্দুস সালাম বলেন, যারা সক্ষম দম্পতি তাদের ৮০ ভাগ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে থাকেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে পরিবার পরিকল্পনার যে পদ্ধতিগুলো রয়েছে তার বেশির ভাগ মেয়েদের বা নারীদের ব্যবহারের জন্য। আমাদের জেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য যে কোনো পদ্ধতি গ্রহণে পুরুষদের তুলনায় নারীরা এগিয়ে। আর পুরুষদের কনডম ব্যবহার বেড়েছে, যা সামনে আরো বাড়বে বলে আশা করা যায়।
কমিউনিটি ক্লিনিক বাড়ির পাশে হওয়ায় এবং পরিচিত মানুষদের কাছে সেবা পাওয়া যায় বলে আগে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমাজে ভুল ধারণা ছিল। এখন তা পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানান ডা. আব্দুস সালাম।

ফেলো, রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফএম