পরিকল্পনা কমিশনে মহানন্দায় রাবার ড্যাম নির্মাণ প্রকল্প

74

dsc01030-customপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত মহানন্দা নদীতে রাবারড্যাম নির্মাণ প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাস হলে একনেকে পাঠানো হবে এবং একনেকে পাস হলেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার চাঁপইনবাবগঞ্জে পানি আইন ও বিধি বিধান বিষয়ক এক কর্মশালায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলী খান এ তথ্য জানিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর জন্য এটি একটি আশীর্বাদ মহানন্দা নদী। চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর স্বপ্নের কথা বিবেচনা করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বৃহৎ একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি শুধু সাধারণ ড্যাম হবে না মহানন্দায় সারা বছর পানি থাকবে, ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমবে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানি রিচার্জ হবে। সেই সাথে ইরিগেশন বৃদ্ধি পাবে। এ সময় তিনি জানান, রাবারড্যাম নির্মাণ প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাস হলে একনেকে পাঠানো হবে এবং একনেকে পাস হলেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে সুপারিশ করে যাচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী যদি সহযোগিতা করেন তাহলে একাজটি বাস্তবায়ন সহজ হবে। এ সময় জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ড্রেনের পানি রাবার ড্যামের ভাটিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওদুদের দাবির প্রেক্ষিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরে এসে ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে  প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম ও নদী খনন’ প্রকল্প হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। রাবারড্যাম নির্মাণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের উপকন্ঠে রেহায়চর এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সেতুর আধা কিলোমিটার ভাটিতে স্থান নির্বাচন করা হয়। চুড়ান্ত নকশায় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৭৭ কোটি টাকা।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকেশৗশলী শাহেদুল ইসলাম জানান, দেশের সবচেয়ে বড় রাবার ড্যাম নির্মিত হতে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীতে। এ ছাড়া ৩৫৩ মিটার দৈর্ঘ্যর এই রাবার ড্যামের উজান ও ভাটিতে ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় নদী খনন করা হবে। এর মধ্যে উজানে ১০ কিলোমিটার ও ভাটি এলাকায় ২৬ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষ হলে মৃতপ্রায় মহানন্দা নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত ও নদীতীরবর্তী এলাকাসহ শহরের অপর পারের প্রায় আট হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে। বেসরকারী হিসাবে জমি চাষের এই পরিসংখ্যান আরও বেশি হবে। উপকৃত হবে শহর ও শহরতলী এবং সংলগ্ন এলাকার কয়েক লাখ হেক্টর আম বাগান। শহর সংলগ্ন নদীর ৩২৬ মিটার রাবার ড্যামের বদৌলতে নদীর উজান ও ভাটি মিলিয়ে ৯৫ কিলোমিটারে ফিরে আসবে নাব্য। উৎপন্ন হবে অতিরিক্ত দুইশ কোটি টাকার ফসল। পাশাপাশি রাবার ড্যামের কারণে নদীর উজানে শতাধিক বিল, ঝিল পুকুরে সারা বছর পানি ধরে রাখা যাবে। ফলে মাছ চাষে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে। সব মিলিয়ে মাছ চাষ থেকে অতিরিক্ত প্রায় একশ কোটি টাকা আয় হবে। যা পৌরসভাসহ পুরো জেলার চাহিদার উদ্বৃত্ত হয়ে বাইরে পাঠাবার সম্ভাবনা দেখা দিবে। বাড়বে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। বিস্তৃত বরেন্দ্র ভূমির সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত হলে চাপ কামে আসবে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর থেকে।