পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

34

আজ সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীসহ বিশেষ সব মুসলিমদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন। রবিবার (২৪ মে) পৃথক বাণীতে তারা এ শুভেচ্ছা ও মোবারক জানান।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে ঈদুল ফিতর উদযাপনের আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্ট এই মহামারির ফলে এ বছর ঈদুল ফিতর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পালিত হবে। এ কঠিন সময়ে আমি সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিবর্গের প্রতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাচ্ছি। একই সাথে আমি দেশবাসীর প্রতি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে ঈদুল ফিতর উদযাপনের আহবান জানাচ্ছি। নিজে ভালো থাকি-অন্যকে ভালো রাখি- এটাই হোক এবারের ঈদে সকলের প্রত্যাশা।’
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, ‘ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, কূপমÐকতার কোনো স্থান নেই। মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহাবস্থান, পরমত সহিষ্ণুতা ও সাম্যসহ বিশ্বজনীন কল্যাণকে ইসলাম ধারণ করে। ইসলামের এই সুমহান বার্তা ও আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামের মর্মার্থ ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য মানবতার মুক্তির দিশারী হিসেবে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ুক, বিশ্ব ভরে উঠুক শান্তি আর সৌহার্দ্য-ে পবিত্র ঈদুল ফিতরে এ প্রত্যাশা করি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর অপার খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। দিনটি বড়ই আনন্দের, খুশির। এ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে, গ্রামগঞ্জে, সারা বাংলায়, সারা বিশ্বে।’
তিনি বলেন, ‘শহরবাসী মানুষ শিকড়ের টানে ফিরে যান আপনজনের কাছে, মিলিত হয় আত্মীয়স্বজনের সাথে। এ দিন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এক কাতারে শামিল হন। ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেন। ঈদ সবার মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ- এ প্রত্যাশা করি।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেয়া অন্য এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সব মুসলমানদের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “মুসলিম জাহানের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত শান্তি কামনা করেন।
তিনি বলেন, ঈদ শান্তি সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয়। হিংসা ও হানাহানি ভুলে মানুষ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ঈদ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলের জীবনে আনন্দের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে। ঈদের আনন্দ আমাদের সবার।
শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন লাভ করুক- এটাই হোক ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা।
তিনি বলেন, “হাসি-খুশি ও ঈদের অনাবিল আনন্দে প্রতিটি মানুষের জীবন পূর্ণতায় ভরে উঠুক। বিশ্বের সকল মানুষের সুখ-শান্তি কল্যাণ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি হোক- আজকের দিনে আমি মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্বাভাবিক পরিবেশে এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি। করোনা ভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এক অদৃশ্য ভাইরাস মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা বাধ্য হচ্ছি নিজ নিজ অবস্থানে ধৈর্য সহকারে অবস্থান করতে যাতে অপরকে সংক্রমিত না করি বা নিজে সংক্রমিত না হই। এই বিপদের সময় আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ যারা জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, আল্লাহ বিপদে মানুষের ধৈর্য পরীক্ষা করেন। শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র বিশ্ব আজ বিপদগ্রস্ত। এসময় সকলকে অসীম ধৈর্য নিয়ে সহনশীল ও সহানুভূতিশীল মনে একে অপরকে সাহায্য করে যেতে হবে।
পাশাপাশি তিনি অনুরোধ করেন, করোনা ভাইরাসের এই মহামারিতে যথাসম্ভব গণজমায়েত এড়িয়ে ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ এবং আল্লাহতায়ালার দরবারে বিশেষ দোয়া করার, যেন এই সংক্রমণ থেকে সবাই দ্রæত মুক্তি পায়।