পদ্মা ও মহানন্দায় বাড়ছে পানি : শিবগঞ্জের দুর্লভপুরে ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমিসহ স্থাপনা

19

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের নামোজগন্নাথপুর এলাকায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমিসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। হুমকির মুখে পড়েছে কয়েকটি গ্রাম।
এদিকে রবিবার পদ্মায় ১.১৮ সেন্টিমিটার এবং মহানন্দায় ১.৬৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। বিপৎসীমার প্রায় ৫ ফুট নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এ দুটি নদী।
দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজিব রাজু জানান, এরই মধ্যে আইয়ুব বিশ্বাসের টোলা গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে দোভাগী, ঝাইলপাড়া, পন্ডিতপাড়া এলাকা। তিনি জানান, এরই মধ্যে এবারের ভাঙনে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। একটি মসজিদ হুমকির মুখে রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান বলেন-ফারাক্কা ব্যারেজ থেকে যেখান দিয়ে পদ্মা নদী বাংলাদেশে অর্থাৎ শিবগঞ্জ উপজেলার যে এলাকা দিয়ে ঢুকেছে সেখান থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। সেখান থেকে পাঁকা-নারায়ণপুর পর্যন্ত সাড়ে ১২ কিলোমিটার এলাকার কিছু স্থানে ভাঙন চলছে। আমরা স্থায়ী বাঁধের জন্য নকশা পেয়েছি। আগামী শুষ্ক মৌসুমে কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জেলার সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা এলাকায় সংরক্ষণ করা নদী তীরের ম্যাট্রেস দেবে গিয়ে ভাঙনের কবলে পড়েছে এলাকাবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা জানান, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, গঙ্গা নদী ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে পদ্মা নাম ধারণ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উজানে ফারাক্কা বাঁধ নির্মিত হওয়ার পর থেকে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানি প্রবাহ কমতে থাকে এবং বিশাল চর জেগে উঠতে থাকে। বর্তমানে পদ্মা তার পূর্বেকার রূপটি হারিয়ে ফেললেও প্রতিবছর বর্ষাকালে প্রলয়ঙ্কারী রূপ ধারণ করে।
ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে একদিকে প্রমত্তা পদ্মা যেমন নাব্য হারিয়েছে; তেমনি দেড় যুগ ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা-তীরবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক নদীভাঙনে বহু মানুষ সবকিছু হারিয়েছে। ১৯৯৫-৯৬ থেকে পাঁকা নারায়ণপুর এলাকায় কিছু অংশে ভাঙন শুরু হয়। পরে জেলাবাসীর আন্দোলনের ফলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের ক্ষমতার শেষ দিকে এসে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তৎকালীন পানিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। এসময় বর্ষা ও বন্যা শুরু হলে কাজ বন্ধ রাখা হয়।
ওই বছরই ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। ক্ষমতায় আসে বিএনপি। কিন্তু স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে শুষ্ক মৌসুমে প্রকল্পের কাজ চলমান রাখা হয়। নির্মাণ করা হয় ৮টি স্পার ও ২১ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধসহ একটি ক্রসড্যাম। কিন্তু সেই বছর প্রমত্তা পদ্মার ভয়াল থাবায় বেশ কয়েকটি স্পার উড়ে যায়। পরের বছর নকশা পরিবর্তন করে স্পারের পরিবর্তে নদীতীর সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়। সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধানো হয়ে নদীতীর। কিন্তু ভাটিতে ভাঙন অব্যাহত থাকে। ফলে প্রকল্পের নকশাও লম্বা হতে থাকে। এভাবেই শাসন করা হয় পদ্মা নদী। পরবর্তীতে আলাতুলি-দেবীনগর এলাকায় ভাঙন শুরু হলে সেখানেও নদীতীর সংরক্ষণ করা হয়।