নয়ন হত্যাকাণ্ড: জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

19

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নয়ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বঙ্গবন্ধু মঞ্চের সামনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ‘১৫নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন- নিহত নয়নের বাবা লিয়াকত আলী ও মা মনোয়ারা বেগম, ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসিদুল হক নিখিল, অবসরপ্রাপ্ত পেশকার ওবাইদুল হক, স্থানীয় যুবলীগ নেতা শারিফ খান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আল-গালিব, স্থানীয় বাসিন্দা আলেয়া বেগম।
বক্তারা, নয়ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অনেক এজারহারভুক্ত আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
পরে নয়ন হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন গত বুধবার সন্ধ্যায় জানিয়েছিলেন, ঈদুল আজহার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে জেলা শহরের বাতেন খাঁ, পিটিআই সড়কে আরামবাগ এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডের ১ নম্বর কলোনির মো. লিয়াকত আলীর ছেলে নয়নকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে ফেলে যায় হামলাকারীরা। পরে এলাকাবাসী নয়নকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) তাকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটানয় সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন- ঘটনার পরপরই প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। সদর থানা ও ডিবি পুলিশ জেলার শিবগঞ্জ থানা এলাকা হতে রাব্বি (২৫) ও আলম (২৪)কে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে রাব্বি ও আলমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানা এলাকা থেকে আলিম, আজিম ও মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শাহরিয়ার আলম সনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের দেখানো স্থান হতে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি চাকু জব্দ করে পুলিশ।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া রাব্বি, আলিম ও আজিমদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে ফকিরপাড়া পানির ট্যাংকির উত্তর পার্শ্বে সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন একটি লেবুবাগানের ভেতরে মাটির তৈরি সুড়ঙ্গের মধ্যে ২টি চাইনিজ কুড়াল, ৪টি লোহার কাতা, ৩টি হাঁসুয়া, ২টি তলোয়ার, ১টি খড়গ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে রাব্বি, আলিম, আজিমদের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় বুধবার অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-১৮।