নৈরাজ্য প্রতিরোধ করুন

121

gourbangla logoশান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দেশে আবারও অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা সৃষ্টির ঘটনা সহ্যের সীমাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ধর্মকে ব্যবহার করে আবারও সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেয়ার ষড়যন্ত্র চানানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে’ আঘাত দিয়ে ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট দেয়ার অভিযোগ এনে ব্যাপক হামলা ও ভাংচুরের যে ঘটনা ঘটেছে কোন সভ্য সমাজ তা বরদাশত করতে পারে না। প্রশাসনের অদূরদর্শিতা, অদক্ষতা, অযোগ্যতা যাই-ই বলা হোক না কেন, এটা সত্য যে, ঘটনার বিষয়ে পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া হলে এই ধরনের হীন ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটতে পারত না। আইনশৃঙ্খলার যে অবনতি ঘটানো হতে পারে এবং অরাজকতা ছড়িয়ে দেয়ার যে অপতৎপরতা চলতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকলে ঘটনা এতদূর গড়াতে পারত না বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগও করেছেন। ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাস তার ব্যক্তিগত ফেসবুক এ্যাকাউন্টে একটি ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ তৈরি হলে পুলিশ রসরাজকে গ্রেফতার করে শুক্রবার রাতে এবং শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। বিষয়টি আইনের আওতায় আনার পরও শুরু হয় ধর্ম ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা। রসরাজ দাবি করে যে, তার ফেসবুকে সে নিজে কোন পোস্ট দেয়নি। অন্য কেউ তার এ্যাকাউন্টে এটি পোস্ট করেছে। তদন্ত ও বিচারে তার বক্তব্যের সত্যতা স্পষ্ট হবে। কিন্তু বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যে নারকীয় হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর চালানো হয় নাসিরনগরে তা মানবতাবিরোধী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ অবশ্যই। এই ঘটনার রেশ ধরে ধর্ম ব্যবসায়ীরা পরদিন রবিবার হবিগঞ্জের মাধবপুর এবং মাগুরার মোহাম্মদপুরেও হামলা-ভাংচুর চালায়। অভিযুক্ত রসরাজের ফাঁসির দাবিতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত ও হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৫টি বাড়িঘর ও ১৫টি মন্দিরে হামলা চালায়, প্রতিমা ভাংচুর এবং ব্যাপক লুটপাটও চালায়। হামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০/১২ জন আহতও হন। এই ঘটনার জের ধরে হবিগঞ্জের মাধবপুর বাজারে আহলে সুন্নাত অনুসারীরা সমাবেশ ও মিছিল করে এবং মন্দির ও হিন্দু বাড়িতে হামলা চালায়। আহলে সুন্নাত অনুসারীরা মাগুরার মোহাম্মপুরের রাজাপুর ইউনিয়নের ছোট নাওডাঙ্গা গ্রামে হিন্দু পরিবার ও মন্দিরে হামলা এবং লুটপাট চালায়। এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সবই পরিকল্পিত, যা জঙ্গীবাদীদের সহায়ক বলে বিবেচিত হয়। সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি এরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। অতীতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদ্রাসার ছাত্ররা গুজব ছড়িয়ে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ একাডেমি ভাংচুর এবং শহরে অরাজকতা চালিয়েছিল। প্রসঙ্গত, রামুর উত্তম বড়ুয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী জামায়াত-শিবির ১২টি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার, ২৬টি ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং লুটপাট চালায়। ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়া-টেকনাফে আরও কয়েকটি বিহার ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ও লুটপাট চালায়। পরে তদন্তে দেখা গেছে, সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিয়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই ধর্মীয় অবমাননার ঘটনা ঘটিয়েছে। রসরাজের ঘটনা এখনও তদন্তাধীন। এ অবস্থায় এসব হামলা স্বাভাবিক নয়। সামাজিক শান্তি ও ধর্মীয় চেতনা বিনষ্টকারী এবং নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টিকারীদের অপতৎপরতা প্রতিহত করা, দ্রুত তাদের গ্রেফতার ও বিচারই হচ্ছে প্রধান কাজ। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানো ও সকল ধর্মীয় উপাসনালয় রক্ষার পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। দেশবাসী এসব ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেবে না।