নিয়ম মাফিক জীবনযাপন করেও ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

80

02বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ‘খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান’ বিভাগের প্রধান ফারাহ মাসুদা জানান, “ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সুষ্ঠু রুটিন অনুসরণ করে চলা উচিত। এতে কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়।” তিনি জানান, ওজন নিয়ন্ত্রণে কিছু বিষয় সবসময় মাথায় রাখা উচিত। যেমন- অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না, সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম ইত্যাদি। ফারাহ মাসুদার দেওয়া পন্থাগুলো এখানে উল্লেখ করা হল- খাবার পাত্রের আকার: বড় আকারের পাত্রে খাবার খাওয়া হলে মস্তিষ্ক ধরেই নেয় যে এটি তার শরীরের জন্য সঠিক মাপ। তাই সঠিক পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করতে খাবারে বিদ্যমান পুষ্টির সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে ও ব্যক্তির শরীরের জন্য কতটুকু পুষ্টি প্রয়োজন তা জেনে খাবার খেতে হবে। প্রয়োজন হলে এই বিষয়ে যে কেউ পুষ্টিবিদের সাহায্য নিতে পারেন। সুষম খাবার খাওয়া: প্রতিবেলার খাবারে যেন সব ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে সেই দিকে নজর দিতে হবে। ক্যালরিবহুল খাবারের পরিমাণ যেন খুব বেশি না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাছাড়া প্রতিদিনের খাবার তালিকা থেকে যেন কোনোভাবেই শাকসবজি ও ফলমূল বাদ না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এর পাশাপাশি দুধ ও ডিম খেতে হবে। প্রতিদিন এই নিয়ম অনুসরণ করলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের সম্ভাবনা কমে যায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। নির্দিষ্ট বিরতিতে পানি পান: অনেক সময় তৃষ্ণা পেলেও মস্তিষ্ক ক্ষুধার সংবেদন দিয়ে থাকে। এতে অতিরিক্ত খাওয়া হয় এবং ওজন বেড়ে যায়। তাই এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে একটু পর পর পানি পান করা উচিত। খাবারের প্রতি মনোযোগ দেওয়া: অনেক সময় খেতে বসে আমরা অন্যান্য কাজ করি যেমন- টেলিভিশন দেখি, কম্পিউটার চালাই অথবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগে ব্যস্ত থাকি। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তাই খেতে বসে অন্য কোনো কিছুর দিকে মনোযোগ না দিয়ে খাবারের পরিমাণ এবং কী খাওয়া হচ্ছে তার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। আর আগ্রহসহকারে খেতে হবে। ফলে অধিক খাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। যথার্থ নাস্তা: সঠিক সময়ে সঠিক নাস্তা করা হলে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে না। এতে করে খাবার খাওয়ার সময় কম বা বেশি খাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। সারাদিন ধরে আজেবাজে খাবার না খাওয়াই ভালো। প্রতিবার খাবারের মাঝে দুতিন ঘণ্টা বিরতি রাখতে হবে এবং নাস্তা হিসেবে ভারি খাবার না খেয়ে ক্যালরি কম আছে এমন ধরনের ফল বা সবজি যেমন- পেয়ারা, আমড়া, শসা, টমেটো ইত্যাদি খেতে পারেন। এতে ক্ষুধা মিটবে আবার ওজনও বাড়বে না। গভীর রাতে খাবার না খাওয়া: অনেকে রাতে দেরিতে ঘুমাতে যান এবং ঘুমের আগ পর্যন্ত কিছু না কিছু খেতে থাকেন, এতে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। ঘুমানোর দুতিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করতে হবে এবং ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ খেয়ে ঘুমাতে হবে। এতে সারাদিনের ক্লান্তি ও অপুষ্টির সমস্যার সমাধান হবে। যথেষ্ট ঘুম: সঠিক মাত্রার ঘুম শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে বলে জানান তিনি। অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে অনেকে অধিক মোটা অথবা চিকন হয়ে যায়। অনেকে আবার অনেক বেশি রাত করে ঘুমাতে যান। এটি শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে। যদি নিতান্তই প্রয়োজনের জন্য বেশি রাতে ঘুমাতে হয় বা রাত জাগতে হয় তবে পরবর্তী সময়ে তার জন্য অধিক বিশ্রাম নেওয়া উচিত। কিন্তু নিয়মিত এই উপায়ে চলা শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে বলে জানান তিনি।