নির্মাণসামগ্রীর ঊর্ধ্বমুখী দামে উন্নয়ন প্রকল্পে বিরূপ প্রভাব

13

নির্মাণসামগ্রীর দাম সাম্প্রতিক সময়ে হু হু করে বাড়ছে। ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বেড়ে যাচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল এবং ব্যয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কয়েকটি প্রকল্প সীমিত পরিসরে সচল থাকলেও ছোটবড় অনেক প্রকল্পের কাজেই ভাটা পড়েছে। আর দেশের আবাসন খাতসহ উৎপাদনমুখী বিভিন্ন খাতে শিল্প-কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি-ব্যক্তি পর্যায়ে অবকাঠামো নির্মাণ খাতে ভাটা লেগেছে। স্থবিরতা বিরাজ করছে এলজিইডিসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প। বড় বড় প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণসামগ্রীর দাম কমার আশায় কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে। তবে নির্মাণসামগ্রীর দাম কবে নাগাদ সহনশীল হবে তা অনিশ্চিত। উন্নয়ন খাত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে অস্বাভাবিক গতিতে বেড়েছে রড, সিমেন্ট, পাথরসহ নির্মাণ সামগ্রীর দাম। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জড়িত ঠিকাদারদের দিশেহারা অবস্থা। লোকসানের আশঙ্কায় অনেক ঠিকাদারই কাজ বন্ধ রেখেছে। মূলত প্রায় বছর ধরে নির্মাণসামগ্রীর মুখ্য উপকরণÑ রড, সিমেন্ট ও ইটের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণ খাতে সব ধরনের সামগ্রীর দাম গড়ে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি প্রকল্পের সময় বাড়ারও শঙ্কা রয়েছে। তাতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সূত্র জানায়, সরকারের মেগাপ্রকল্প স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, ঢাকা-চট্টগ্রামে একাধিক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কক্সবাজারের মহেশখালী মাতারবাড়ীতে মেগা প্রকল্পের বহরসহ প্রায় ২ হাজার প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া চট্টগ্রামের মীরসরাই-সীতাকু- ও ফেনীর সোনাগাজীর বিশাল এলাকায় বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরসহ সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার কাজও চলছে। আবাসন খাতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে বিপুলসংখ্যক প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছে। কিন্তু নির্মাণসামগ্রীর আকাশছোঁয়া দামে এখন ওসব উন্নয়ন কর্মকা- থমকে আছে।
সূত্র আরো জানায়, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিতে দেশে বিকাশমান আবাসন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। করোনার ধকল কাটিয়ে আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর মুহূর্তে নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি আবাসন খাতের কষাঘাত হেনেছে। বাড়ছে প্রকল্পের ব্যয়। এভাবে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বাড়তে থাকলে আবাসন খাতের মূল্যও অনেক বেড়ে যাবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রকল্প কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে। কেউ আবার কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় পুষিয়ে নিতে আবাসন খাতে মূল্যবৃদ্ধি হলে বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও তীব্র হচ্ছে।
এদিকে ঠিকাদারদের মতে, এক বছরে নির্মাণসামগ্রীর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এমন অবস্থায় লোকসান দিয়ে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আর নির্মাণসামগ্রীর মূল্য না কমলে ঠিকাদারদের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। কারণ সব ধরনের নির্মাণসামগ্রীর দামই ঊর্ধ্বমুখী। পাশাপাশি বাজারে সরবরাহও কম। ফলে কার্যক্রম চালিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে ঠিকাদাররা। খবর এফএনএস।