নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ

51

প্রকল্প ব্যয় ও বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ইচ্ছে মতো বাড়ানো যাবে না। সরকারের বেঁধে দেয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত লেগে যায়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো কোনো প্রকল্প সময়মতো করা সম্ভব হচ্ছে না। আর নির্দিষ্ট সময়ে কোনো প্রকল্পের কাজ করতে না পারায় সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। সেজন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সকল প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। কারণ একটি সরকারের আমলে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও তার মন্ত্রণালয় কি কি কাজ সমাপ্ত করতে পেরেছে তার মূল্যায়ন করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকার গত অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ঢাকা ওয়াসাসহ মোট চারটি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ১৩টি সিটি করপোরেশনসহ সকল সংস্থাকে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। চলতি অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা প্রদান করে। একই সাথে নতুন ও পুরাতন সকল প্রকল্পের সর্বশেষ তথ্য আপডেট রাখতে ও প্রকল্প কাজ পরিদর্শন করতে সংশ্লিষ্ট সব স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ঘন ঘন মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাছাড়া নাগরিকদের জীবন মান উন্নয়নে সরকারের নেয়া প্রকল্প সময় মতো ও মানসম্পন্নভাবে শেষ করতে প্রতিটি কাজে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতেও মন্ত্রণালয় বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্র জানায়, এখন থেকে দীর্ঘমেয়াদে করা চলমান সকল প্রকল্প কাজ চিহ্নিত করা হবে ও গুরুত্ব বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বার্ষিক কর্মপরিকল্পনার ওয়াদা অনুযায়ী তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা তাও নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। একইসঙ্গে গাফিলতি পাওয়া গেলে কারণ অনুসন্ধান করে বিশ্লেষণপূর্বক তা সময় মতো শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সেজন্য বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা প্রধানদের জবাবদিহি করতে হবে। সংস্থা প্রধানদের কাছে প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরও কাজের অগ্রগতি সময় মতো তুলে ধরতে হবে। আর দীর্ঘমেয়াদে চলা যেসব প্রকল্প রয়েছে তার কারণ চিহ্নিত করে তা দ্রুত শেষ করতে উদ্যোগ নেয়া হবে। তাছাড়া যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করতে প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।
বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল সংস্থার মোট চলমান ছোট বড় ২৫৬টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ওসব প্রকল্পের কাজে গতি ফেরাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার পল্লী উনয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। মূলত যে কোনো প্রকল্প বছরের পর বছর চলতে দেয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধের অংশ হিসেবেই এমন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, গত বছর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বেশ কিছু বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও ওয়াদা অনুযায়ী লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের আমলে প্রতিটি মন্ত্রণালয় তার স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি অর্থবছরে কি কি করবে তার জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে নির্দেশ দিয়েছেন। এবার ওই চুক্তির সফল বাস্তবায়নে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। কারণ দেশের উন্নয়নে নেয়া যে কোনো প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করে যেন দুর্নীতি না হয়। তাছাড়া কোনো প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের সময় যদি সুবিধা ভোগকারী নাগরিকদের জন্য ক্ষতির কারণ হয় তাহলে ওই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত প্রকৌশলী, ঠিকাদার থেকে শুরু করে যারাই যুক্ত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার বাইরে গুণগত মানসম্পন্ন কাজ করতে গিয়ে কেউ যদি বাধার সম্মুখীন হতে হয় বা কোনো প্রভাবশালী কাজ ব্যাহত করে তাহলে তা মোকাবেলার দায়িত্ব তার মন্ত্রণালয় নেবে। এ বিষয়ে কারো সঙ্গে সমঝোতা না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে বর্তমানে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে ছোটবড় মোট ২৫৬টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সকল কাজে গতি আনতে বদ্ধপরিকর। সেজন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সাহসের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প কাজ শেষ করতে প্রকল্প পরিচালক ও বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন নির্দিষ্ট সময়ে করতে না পারলে কেন তা করা হলো না তার যুক্তিযুক্ত কারণ উল্লেখ করতে হবে। কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতি লক্ষ্য করা গেলে তা নিরসনে সময়মতো শেষ করতে নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে সব বাধা দূর করতে হবে।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি জানান, বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল সংস্থার মোট চলমান ছোটবড় ২৫৬টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ দেশে যে কোনো প্রকল্প হাতে নিলেই তা নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে দেখা যায় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো ৮-১০ বছরেও শেষ হয় না। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাল ও ব্যয় বেড়ে যায়। যার ফলে নাগরিকরা দুর্ভোগের শিকার হয় এবং সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন থেকে নির্দিষ্ট সময়েই সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।