নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষে কাজ শুরু প্রয়াসের

29

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষে কাজ শুরু করেছে উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সাইটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট-সেপ’র আওতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রয়াস। এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত নাম হচ্ছে- ‘সেফ ম্যাঙ্গো প্রমোশন বাই লার্নিং’ বা ‘শিখনের মাধ্যমে নিরাপদ আম উৎপাদন’।
বুধবার এ প্রকল্প সম্পর্কে এক অবহিতকরণ সভার আয়োজন করে প্রয়াস। বেলা ১১টায় জেলাশহরের বেলেপুকুরে সংস্থাটির নকীব হোসেন মিলনায়তনে এর আয়োজন করা হয়। প্রয়াসের নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হরিদাস চন্দ্র মহন্ত। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রয়াসের পরিচালক মোখলেছুর রহমান। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মো. জহুরুল ইসলাম।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন- এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রভাষক ড. মো. সাহেব আলী, বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, সিটি প্রেস ক্লাব-চাঁপাইনবাবগঞ্জের সভাপতি সাজেদুল হক সাজু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি হোসেন শাহনেওয়াজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হুদা অলক, জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. নূরুল ইসলাম, শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম।
সভায় কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকদের প্রতিনিধি, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রকল্পের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, আমচাষি ও আম ব্যবসায়ী, কৃষি উপকরণ জোগানদাতা, আমের প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদনকারীরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর, গোমস্তাপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রয়াস। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে- গোবরাতলা, মহারাজপুর, চরঅনুপনগর, গোলাপেরহাট, চৌডালা, রহনপুর, বাঙ্গাবাড়ী, আড্ডা, শাহবাজপর, মোবারকপুর, শিবগঞ্জ, মনাকষা প্রভৃতি।
প্রকল্পের উপকারভোগী হবে ২ হাজার জন। এর মধ্যে রয়েছেন- আমচাষি, আম ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, কৃষি উপকরণ সরবরাহকারী ও আমের প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী। স্টেকহোল্ডার হিসেবে থাকছে- স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি অফিস (জেলা ও উপজেলা), হর্টিকালচার সেন্টার, আম গবেষণা, আমচাষি সমিতি, কৃষি বিক্রয় ও বিপণন বিভাগ, কৃষি উপকরণ সরবরাহকারী ও নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর। প্রকল্পের মেয়াদকাল হচ্ছে ৩ বছর।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- নিরাপদ আম উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করা, আমচাষি ও ভোক্তার স্বাস্থ্য ঝুঁকি রোধ করা, কর্মএলাকার সামগ্রিক পরিবেশের উন্নতি করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে আম চাষে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়ানো।
সভায় প্রকল্পের মূল কর্মকা-ও তুলে ধরা হয়। প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে নিরাপদ আম উৎপাদন। এছাড়া উন্নত জাতের ও বারোমাসি আমের চারা সহজলভ্য করার জন্য নার্সারি স্থাপন, জৈব সারের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য ট্রাইকো/ভার্মি কম্পোস্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, আম থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রস্তুতকরণে উদ্যোক্তাদের কারিগরি সহায়তা প্রদান, পাকা আম দীর্ঘ দিন সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, ফ্রুট ব্যাগিং, ন্যাচারাল / ইকো ফার্মিং প্রমোশন, ব্র্যান্ডিং, অনলাইন মার্কেটিং প্রমোশন এবং বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নতিকরণ।