নিরাপত্তা বাড়াতে হবে শাহজালাল বিমানবন্দরে

116

gourbangla logoনিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। ৩১ মার্চের মধ্যে দুই দেশের সম্মত পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু না হলে বাংলাদেশ বিমানের যুক্তরাজ্যগামী সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইটও পড়তে পারে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায়। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া এক চিঠিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন। সপ্তাহে ঢাকা-লন্ডন চারটি ফ্লাইটে যে পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হতো, তাতে মাসিক কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতো বিমানের। এর মধ্যে প্রধানত থাকত তৈরি পোশাক, শাকসবজিসহ রফতানিমুখী অন্যান্য পণ্য। কার্গো ফ্লাইট বন্ধের ফলে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে গার্মেন্টস খাত। আর বিপদে পড়বেন দু’শতাধিক সবজি ব্যবসায়ী। এর ফলে মাথায় হাত পড়েছে কার্গো রফতানি সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও।
গত বছরের নবেম্বরে ঢাকা থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে অস্ট্রেলিয়া। ফ্লাইট বন্ধের ব্যাপারে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া প্রাথমিকভাবে যেসব কারণ দেখিয়েছে তা হলো, কার্গো ভিলেজের অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা। দক্ষ জনবলের অভাব এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ। অবশ্য বিমানের পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিমান সংস্থাও পড়বে কার্গো নিষেধাজ্ঞার আওতায়। যারা ঢাকা থেকে কার্গো বহন করে থাকে।
যুক্তরাজ্যের এভিয়েশন গোয়েন্দা দল গত কয়েক মাসে সময়ে সময়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ নিয়ে তারা যথাযথ ব্যবস্থাও নিতে বলেছে সরকার ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে। সর্বশেষ রিপোর্টে বিমানের ঢাকা-লন্ডন সরাসরি যাত্রী পরিবহনে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও কার্গো পণ্য পরিবহনে সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও গাফিলতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য। যেমন, রফতানি টার্মিনালে কর্মরত ৩০০ জনবলের মধ্যে মাত্র ৬০ জন বিমানের। বাকিরা বিভিন্ন সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট ও বহিরাগত। পণ্য সামগ্রী স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থাও ভাল নয়। যেমন, এতে বোমা ও বিস্ফোরক পদার্থ শনাক্ত করা যায় না।
সত্য বটে, সরকার পর্যবেক্ষণ টিমের সুপারিশের ভিত্তিতে শাহজালালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়েছে। ২৫০ সদস্যের জনবল নিয়োগ এর অন্যতম। একনেকের সর্বশেষ বৈঠকে বাংলাদেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে জরুরী সরঞ্জাম সরবরাহ ও সংস্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯০ কোটি টাকার অত্যাধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি কেনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হয়। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও ঐতিহাসিক, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। সে অবস্থায় পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা।