নিজস্ব ভবনে গেল নির্বাচন কমিশন

107

ecনির্বাচন কমিশনের (ইসি) ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। গত রোববার সম্পূর্ণ নিজস্ব ভবনে যাত্রা শুরু করল সংস্থাটি। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনাররা শেষ সময়ে এসে নতুন ভবনে অফিস করা শুরু করলেন। তবে এ কমিশন তার মেয়াদে আর কোনো নির্বাচন পাচ্ছে না। ইসি’র নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা জানিয়েছে, এ বছরের মে পর্যন্ত চারটি নির্বাচন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচন, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচন। গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর নিহত হওয়ায় আগামি ২ মের মধ্যে এ আসনের উপনির্বাচন করতে হবে। টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপনির্বাচনে কাদের সিদ্দিকীর আপিল খারিজ হওয়ায় সেখানেও উপনির্বাচন আসন্ন। এ দুই উপনির্বাচনের তফসিল দেওয়া প্রয়োজন আগামি ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি। কেননা, একটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে ৪৫ দিন সময়ের প্রয়োজন হয়। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ০৫ জানুয়ারি। আইন অনুসারে, কোনো করপোরেশন গঠনের পর প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর হয় তার মেয়াদ। এ ক্ষেত্রে কুমিল্লা সিটির মেয়াদ আগামি ০৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কেননা, এ সিটির প্রথম সভা হয়েছিলো ০৯ ফেব্রুয়ারি। আর নির্বাচন করতে হয় কোনো করপোরেশন তার মেয়াদ পূর্ণ করার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে। আইনি জটিলতার কারণে এতোদিন এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে এ ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা নেই। তবে আগামি ০৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এ তিনটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে যেতে যাচ্ছে বর্তমান ইসি। ওইদিন সিইসিসহ তিন নির্বাচন কমিশনারের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। অন্যদিকে ইসি’র তফসিল অনুসারে, বাঘাইছড়ি পৌরসভার নির্বাচন হবে আগামি ১৮ ফেব্রুয়ারি। বর্তমান সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ ও জাবেদ আলী দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০১২ সালের ০৯ ফেব্রুয়ারি। আর নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ দায়িত্ব নিয়েছিলেন একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। এ ক্ষেত্রে সিইসিসহ তিন কমিশনারের মেয়াদ আগামি ০৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। আর কমিশনার শাহ নেওয়াজের মেয়াদ শেষ হবে আগামি ১৫ ফেব্রুয়ারি। তাই এ কমিশন নতুন ভবনে গেলেও আর কোনো নির্বাচন পাচ্ছে না। ওই চার নির্বাচনের মধ্যে টাঙ্গাইল উপনির্বাচন করে যেতে চান নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ। এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি নির্বাচন ও গাইবান্ধা-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে যাওয়ার পক্ষে কমিশন। কেননা, বর্তমান কমিশন ঘোষণা না দিলে নতুন কমিশনকে দায়িত্ব নিয়ে এ তিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। যেখানে সময়ক্ষেপণের সম্ভাবনা থেকে যায়। ইসি’র উপ-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ব মূহুর্তেই নতুন কমিশন নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে তারা দায়িত্ব নিয়ে সবকিছু বুঝতেও একটু সময়ের প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান কমিশন দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার আগ মুহূর্তে তফসিল ঘোষণা করে গেলে নতুন কমিশনের জন্য সুবিধা হবে। তবে বর্তমান কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ইসি’র সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতা পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশে ২১৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নিজস্ব ভবন নির্মিত হয়েছে নির্বাচন কমিশনের। ২ একর ৩৬ শতাংশ জমিতে ইলেকশন রিসোর্স সেন্টার (ইআরসি) নামে ইসি’র নিজস্ব ভবনটির দু’টি অংশ রয়েছে। এর একটি অংশ হচ্ছে ১২তলা ইটিআই (নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট) ভবন। অন্যটি ১১তলা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-বিইসি ভবন। বিইসি ভবন নির্মাণের মেয়াদ আগামি ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। কিন্তু বর্তমান কমিশন তার মেয়াদেই নতুন ভবনে অফিস করবেন বলে শেষদিকে তাড়াহুড়া করে কাজ শেষ করা হয়। ১৯৭৩ সাল থেকে শেরে বাংলানগরের পরিকল্পনা কমিশনের ৫ ও ৬ নম্বর ব্লক ভাড়া করে কাজ চালিয়ে আসছিল নির্বাচন কমিশন। এর আগে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচন অফিস ছিল মোমেনবাগে। সেটি মুক্তিযুদ্ধের সময় বোমা মেরে পুড়িয়ে দেন মুক্তিযোদ্ধারা। এতে এক নৈশপ্রহরী নিহতও হন।