নারীদের সুপারিশ ও পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সব নির্বাচন হবে : সিইসি

49

নারী সমাজের সুপারিশ ও পরামর্শ ‘গুরুত্ব সহকারে’ নিয়ে জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচন করার কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি কেএম নূরুল হুদা। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে নারী নেত্রীদের সঙ্গে সংলাপের শুরুতে এ কথা বলেন তিনি। উপস্থিত নারী নেত্রীদের উদ্দেশে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, জাতীয় নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনে আপনাদের কাছ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা পেতে পারি সেই বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে চাই। আপনারা নারী সমাজের কথা বলুন, দেশের কথা বলুন; সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলুন। আমার বিশ্বাস- এই আলোচনার মধ্য দিয়ে যে উপকরণ সংগ্রহ করব, নির্বাচন পরিচালনায় তা সহায়ক হবে। আপনাদের সুপারিশ ও পরামর্শ আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করব। সংলাপে ২২ নারী নেত্রীকে আমন্ত্রণ জানালেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৩ জন উপস্থিত হন বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান। এদের মধ্যে রোকেয়া কবির, মালেকা ভানু, রেখা চৌধুরী, অ্যারোমা দত্ত, ফাতেমা আক্তার, নাসরিন বেগম, ফরিদা ইয়াসমিন, রীনা সেন গুপ্ত, পারভীন সুলতানা ঝুমা, মাহবুবা বেগম, রেহানা সিদ্দিকী, মাসহুদা খাতুন শেফালী এবং মনসুরা আক্তার রয়েছেন। সংলাপ শুরুর পর সূচনা বক্তব্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অবদানের কথা তুলে ধরে সিইসি কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের অবস্থান উজ্জ্বল- তা আমরা সকলেই জানি। এ অঞ্চলে বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার নারীদের সামাজিক দ্বার উন্মোচন করে রেখেছেন। সেই পথ ধরে জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে দেশের নারীদের পদচারণার অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নে দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। দেশ গঠনে ও পরিচালনায় নারীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা তাদের অবস্থান সুসংহত করেছে বলেন নূরুল হুদা। সরকার পরিচালনায় নীতি নির্ধারণী, রাজনীতিতে দপ্তর ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বিচারকাজ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে, সামারিক বাহিনীতে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষণে, কূটনীতি, শ্রমবাজারে এমনকি নির্বাচন কমিশনেও নারীদের অবস্থান সুসংগঠিত রয়েছে। নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণেই দেশ মধ্যম আয়ে উন্নীত হওয়ার দ্বার প্রান্তে ও উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সিইসি। এর আগে গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ ও ১৭ অগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং ২৪ অগাস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।