নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ

86

narayangonj01আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। গতকাল সোমবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার। এবারই প্রথমবারের মতো দেশে দলীয়ভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রিটার্নিং অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নৌকা, বিএনপি দলীয় প্রার্থী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে ধানের শীষ, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ইসমাইলকে কোদাল, এলডিপির কামাল প্রধানকে ছাতা, কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌসকে হাতঘড়ি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাসুম বিল্লাহকে হাত পাখা ও ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি এজহারুল হককে মিনার প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত রোববার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে জাসদ সমর্থিত প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনে মেয়র পদ ছাড়াও ২৭টি সাধারণ ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে মোট চার লাখ ৭৯ হাজার ৩শ ৯২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪১ হাজার ৫শ ১৪ জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ৩৭ হাজার ৮শ ৭৮ জন। ভোটগ্রহণ করা হবে ১শ ৬৩টি কেন্দ্র ও এক হাজার ২শ ১৭টি ভোটকক্ষে। নির্বাচনে মোট ১শ ৬৩ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, এক হাজার ২শ ১৭ সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও দুই হাজার ৪শ ৩৪ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।
এদিকে, গতকাল সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর বিএনপির মেয়রপ্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে। সাখাওয়াত সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের মানুষের মাঝে গণজোয়ার ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ এখন ভোট দেওয়ার সুযোগ চায়। আমি যেখানেই যাচ্ছি, জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ চায়। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেলে নারায়ণগঞ্জের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে। অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আহ্বান জানান বিএনপির প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু এখনও সমান সুযোগ সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি হয়নি। আমি ইতিপূর্বে বলেছি লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই। কিন্তু এখনো পাইনি। এক প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন সকল ব্যবস্থা নেবে- সেই আশা নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মনোভাব কী তা যাচাইয়ের জন্য আমরা নির্বাচনে অবর্তীণ হয়েছি। এবারই প্রথম দলীয়ভাবে সিটির নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার সকালে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে স্থাপিত কার্যালয়ে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন। সাখাওয়াত সাংবাদিকদের কাছে আবারও অভিযোগ করেন, আইভী কয়েকদিন ধরে আইন ভঙ্গ করলেও নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি বলেন, সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সিটি কর্পোরেশনের সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে মিছিল নিয়ে প্রতীক নিতে এসেছেন। গত ৫/৭ দিন যাবত উনি (আইভী) আচরণবিধির কোনো তোয়াক্কাই করছেন না। তিনি অহরহ আইন ভঙ্গ করলেও নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তো সরকারের পরির্বতন হবে না। সরকারি দলের প্রার্থী যত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন তার প্রমাণ যদি দিতে যাই তাহলে আমি তো নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা করতে পারব না। বিধি লঙ্ঘনে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও ‘সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রেখে’ সকল আইন-কানুন মেনেই নির্বাচনী প্রচারে থাকতে চান তিনি। নায়ারণগঞ্জের এই আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, আজ থেকে আমরা নির্বাচনী কার্যক্রম সকল আইনকানুন মেনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাব। জনগণের যে গণতান্ত্রিক যে অধিকার হরণ করা হয়েছে, সেই গণতান্ত্রিক অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাব। আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ করব, আপনারা জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন।ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে সাখাওয়াত বলেন, আমি কারো ফেভার চাই না। আমি চাই সুষ্ঠু নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে- তার চেয়ে বড় নিরাপত্তা বাহিনী বাংলাদেশ মানুষ ও সংবাদকর্মী মনে করি। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সেই সুযোগটা আপনারা গণমাধ্যমকর্মীরা করে দেবেন- এটাই প্রত্যাশা।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোটে মানুষ যে রায় দেবে, তা মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। গতকাল সোমবার প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পেয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাজধানী লাগোয়া এই সিটির সাবেক মেয়র। রিটার্নিং অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার সকালে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে এ সিটির নির্বাচন হবে। সেলিনা হায়াৎ আইভী সাংবাদিকদের বলেন, আইভী নৌকা থেকে বিছিন্ন নয়, নৌকা আইভী থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। জনগণ আইভীর নাড়ির স্পন্দন। জনগণও আইভী ও নৌকা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সুতরাং আমরা এক সাথে, একযোগে কাজ করব। কেউ কারও থেকে ছোট বা বড় নয়। গণরায় অবশ্যই মেনে নেব। গণরায়ে যেটা হবে সেটাই মেনে নেব। নারায়ণগঞ্জে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা ‘নৌকা’য় রায় দেবে এমন আশা প্রকাশ করে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আইভী বলেন, আশা করি নারায়ণগঞ্জের মানুষ দলমত নির্বিশেষে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে আমাকে পুনরায় সুযোগ করে দেবে। আগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৫৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন জয়ের জন্য লড়ছেন। নারায়ণগঞ্জের বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আইভী ২০১১ সালে দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় অনেক নেতার বিরোধিতার মধ্যে প্রার্থী হয়ে দলের আরেক নেতা এ কে এম শামীম ওসমানকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।